২১ জানুয়ারী ২০১৯


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   ফল-মূল চাষ  
কাঁঠালের ভালো ফলন পেতে যা করবেন

দুর্বল হলে কাঁঠাল গাছে ফল ধরে না। সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করলে সুফল পাওয়া যাবে। প্রয়োজনে সেচ দিতে হবে। তাহলে গাছে কাঁঠাল ধরবে। গাছের অত্যধিক তেজ বা দৈহিক বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দিলেও অনেক সময় ফুল ও ফল ধরে না। এ অবস্থায় গাছের কিছু শেকড় ও ডালপালা ছাঁটাই করে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

পুরুষ ও স্ত্রী ফুলের বয়সের পার্থক্যের কারণে পরাগায়ন বিঘ্নিত হলে ফল ঝরে পড়ে। কৃত্রিম পরাগায়নের মাধ্যমে ফল ধারণ বাড়ানো সম্ভব। এ ছাড়া অতিরিক্ত খরা ও গাছের অপুষ্টির কারণে কাঁঠাল ফল ঝরে যায়। রোগ ও পোকার আক্রমণেও ফল ঝরে যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে পরিমিত সেচ প্রদান, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং রোগনাশক ও কীটনাশক ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যায়। ফল সংগ্রহ শেষে গাছের রোগাক্রান্ত, মরা ডালপালা ছেঁটে ফেলা ভালো।

অনেক সময় গাছে থাকা অবস্থাতেই কিছু কিছু কাঁঠাল ফেটে যায়। ফল পাকার আগেই এ অবস্থা হওয়ার কারণে তা আর পাকতে পারে না। তার আগেই পচতে শুরু করে। গাছের তেজ বেশি হলে ও সার বেশি দিলে এরূপ অবস্থা হতে পারে। প্রতিকার হিসেবে গাছে ইউরিয়া সার কম ব্যবহার করা, গাছের কিছু মূল ছাঁটাই করা এবং অনুমোদিত মাত্রায় পটাশ সার ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যায়।

সাধারণত গাছ লাগানোর সাত থেকে আট বছর পর থেকে ফল ধরা শুরু হয়। শুরুতে গাছপ্রতি ১০-১৫টি থেকে ২০০-২৫০টি পর্যন্ত ফল ধরতে পারে। গাছের সব কাঁঠাল একসঙ্গে পরিপকস্ফ হয় না। ফল পাকতে সাধারণত ১২০ থেকে ১৫০ দিন সময় লাগে। ফলের গায়ের কাঁটা যখন ক্রমে চ্যাপ্টা হতে থাকে ও কাঁটার অগ্রভাগ কালো রঙ ধারণ করে তখনই ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। কাঁঠালের ফল জ্যৈষ্ঠ-শ্রাবণ মাসে সংগ্রহ করা হয়।

কাঁঠালে সাধারণত পচা ও মুচি ঝরা রোগ দেখা যায়। কাঁঠাল পচা রোগের আক্রমণে কচি ফলের গায়ে বাদামি রঙের দাগ দেখা দেয়। ফলে আক্রান্ত ফল গাছ থেকে ঝরে পড়ে। গাছের পরিত্যক্ত অংশে এ রোগের জীবাণু বেঁচে থাকে এবং বাতাসের মাধ্যমে তা বিস্তার লাভ করে। প্রতিকার হিসেবে গাছের নিচে ঝরে পড়া পাতা ও ফল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। টিল্ট, ডায়থেন এম-৪৫ এ জাতীয় ছত্রাকনাশক ১০ লিটার পানিতে ২৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছে ফুল আসার পর থেকে ১৫ দিন পরপর তিনবার স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

মুচি ঝরা রোগের আক্রমণে কাঁঠালের মুচি (স্ত্রী পুষ্পমঞ্জুরি) ছোট অবস্থাতেই কালো হয়ে ঝরে পড়ে। পুরুষ পুষ্পমঞ্জুরি স্বাভাবিকভাবেই কালো হয়ে ঝরে পড়ে। মুচি ধরার আগে ও পরে ১০ থেকে ১২ দিন পরপর দুই থেকে তিন বার বর্দোমিশ্রণ, কিংবা ২.৫ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ অথবা রিডোমিল এম জেড প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

কাঁঠাল গাছে সাধারণত কাণ্ডের পোকা ও ফলের মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা যায়। কাণ্ডের মাজরা পোকার আক্রমণে পোকা কচি ডাল ও কাণ্ড ছিদ্র করে ফেলে। আক্রমণের লক্ষণ হিসেবে গর্তের মুখে পোকার বিষ্ঠা দেখা যায়। সুচালো লোহার শলাকা গর্তের ভেতরে ঢুকিয়ে খুঁচিয়ে গ্রাব অবস্থায় পোকা মারতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে খোঁচানো গর্তের মধ্যে কেরোসিন বা পেট্রোল অথবা ০-০২% ভেপোনা দিয়ে গর্তের মুখ কাদামাটি বা বর্দোপেস্ট দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে। এতে মাজরা পোকার কিড়া ছোট ফলের মধ্যে ফুটো করে ঢুকে ফলের ক্ষতি করে। আক্রান্ত ফল অনেক সময় পুরোটাই পচে যায়। এ পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ফলগুলো সংগ্রহ করে তা ধ্বংস করতে হবে। আক্রমণ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাইসন/সিমবুশ/বাসথ্রিন/সিমকিল/মাইথ্রিন বা এ জাতীয় কীটনাশক ১ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলে সুফল পাওয়া যাবে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে একটি গাছ থেকে বছরে প্রায় এক হাজার কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে।
পাতাটি ৪০৯১ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  পুষ্টিকর ফল বিলাতি গাব ও অরবরই চাষ

»  সফেদা চাষ

»  বাংলাদেশের কৃষিতে এবার ড্রাগন ফল

»  আনারস চাষ

»  আমের যখন মুকুল ঝরে