২১ জানুয়ারী ২০১৯


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   ফল-মূল চাষ  
কমলার চাষ পদ্ধতি

যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হয় এমনি উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে কমলার চাষ ভালো হয়। খাসিয়া ও বারি-১ জাত সংগ্রহ করে আপনিও কমলার চাষ শুরু করতে পারেন। ফল ধরতে ৪ থেকে ৫ বছর সময় লাগে। তবে ভিনিয়ার/ক্লেফট গ্রাফটিং এবং টি-বাডিং চারা থেকে ২-৩ বছরের মধ্যেই ফল আসে।
মে-জুন মাসে চারা রোপণ করতে হয়। তবে সেচের সুবিধা থাকলে যে কোনো সময় চারা রোপণ করা যায়। সমতল জমিতে বর্গাকার-আয়তকার এবং পাহাড়ি জমিতে কণ্টুর পদ্ধতিতে মাদা তৈরি করে চারা রোপণ করতে হয়। চারা ৪ মিটার–৪ মিটার দূরত্বে রোপণ করা যায়। মাদার গর্তের আকার ৬০–৬০–৬০ সেন্টিমিটার। প্রতি মাদায় ১০ কেজি গোবর, ২শ’ গ্রাম করে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি এবং ৫শ’ গ্রাম চুন দিতে হয়। চারা রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিন পূর্বে সার প্রয়োগ করতে হয়। খরা মৌসুমে বয়স্ক গাছে ২ থেকে ৩টি সেচ দিতে হয়। ফল পরিপকস্ফ হওয়ার সময় সেচ দিলে আকারে বড় ও রসযুক্ত হয়। গাছের গোড়ায় পানি জমলে মাটিবাহিত রোগ হতে পারে। আগাছা গাছের বেশ ক্ষতি করে। এছাড়া গাছের শেকড়গুলো মাটির উপরিস্তরে থাকে বিধায় গভীরভাবে নিড়ানি না দেয়াই ভালো। গাছ লাগানোর পর ফল ধরার পূর্ব পর্যন্ত ধীরে ধীরে ডাল ছেঁটে গাছকে নির্দিষ্ট আকারে রাখতে হবে। ডাল ছাঁটাইয়ের পর কাটা অংশে বর্দোপেস্ট দিতে হয়। দুটি পাত্রে ৭০ গ্রাম তুঁতে ও ১৪০ গ্রাম চুন আলাদাভাবে এক লিটার পানির সঙ্গে মিশ্রণ করে বর্দোপেস্ট তৈরি করতে হয়। কমলা পরিপকস্ফ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রং বদলাতে শুরু করে। ভালোভাবে পাকার পর সংগ্রহ করলে ফল মিষ্টি হয়। পূর্ণবয়স্ক কমলা গাছ প্রতি বছর গড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’টি ফল দেয়। বেশি বয়স্ক গাছ এক হাজার থেকে দেড় হাজার ফল দিতে পারে। একটি গাছ সাধারণত ৫০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে।
পাতাটি ৮৫৫০ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  পুষ্টিকর ফল বিলাতি গাব ও অরবরই চাষ

»  সফেদা চাষ

»  বাংলাদেশের কৃষিতে এবার ড্রাগন ফল

»  আনারস চাষ

»  আমের যখন মুকুল ঝরে