Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 সিলেটে মাছের আকাল অর্ধশতাধিক দেশীয় প্রজাতি বিলুপ্তপ্রায়

১৯ জুন ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   কৃষি পণ্য  
সিলেটে মাছের আকাল অর্ধশতাধিক দেশীয় প্রজাতি বিলুপ্তপ্রায়

হাকালুকি, টাঙ্গুয়রসহ অসংখ্য হাওর-বাঁওড়, বিল-ডোবা, খাল-নালা, নদ-নদী পরিবেষ্টিত বৃহত্তর সিলেটে মাছের আকাল চলছে। দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন ছোট-বড় সুস্বাদু মাছ নেই বললেই চলে। বাজারে যৎসামান্য যে দেশী মাছ পাওয়া যায় তার দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। অন্যদিকে চাষের মাছ এবং আমদানিকৃত বিদেশী মাছের দামও চড়া। ফলে মাছ দিয়ে ভাত খাওয়া এখন অনেকেরই সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। অথচ বৃহত্তর সিলেট একসময় মাছের জন্য বিখ্যাত ছিল। শহর কিংবা গ্রামের বাজারে দেশী মাছ ছিল অত্যত্ম সহজলভ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বিচারে পোনা মাছ নিধন, পানি সেচে জলাশয় শুকিয়ে মাছ আহরণ, অনেক জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়া, কৃষি জমিতে ব্যাপকহারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারসহ আরো কিছু কারণে সিলেট অঞ্চলে দিন দিন দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। অনেক প্রজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। অনত্মত অর্ধশতাধিক দেশীয় প্রজাতি এখন বিলুপ্তপ্রায়।

বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার হাওর-বাঁওড়, বিল, নদী-নালাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাশয়ে অতীতে দেশীয় প্রজাতির রম্নই, কাতলা, মৃগেল, বোয়াল, চিতল, কালি বাউশ, আইড় (গাগট), গজার, শৌল, পাবদা, চাপিলা, কৈ, টেংরা, পুঁটি, রানী, মলাসহ আরো অনেক প্রজাতির সুস্বাদু দেশীয় মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেতো। কিন্তু ক্রমেই এসব মাছ হারিয়ে যাচ্ছে।

সংশিস্নষ্ট সূত্র জানায়, এক সময় ২৬৮ প্রজাতির দেশীয় মাছ সিলেট অঞ্চলে থাকলেও এখন সবসময় পাওয়া যায় মাত্র অর্ধশত প্রজাতির মাছ। অঞ্চলভেদে ও মাঝে মধ্যে পাওয়া যায় আরো কিছু দেশী প্রজাতির মাছ। তবে অর্ধশতাধিক প্রজাতির দেশীয় মাছ এখন বিলুপ্তপ্রায়।

দেশীয় প্রজাতির মাছের বিলুপ্তি প্রসঙ্গে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূরম্নল হায়দার ইত্তেফাককে বলেন, বেশকিছু কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন কমছে এবং অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির সম্মুখীন হয়েছে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে, জলাশয় ভরাট, কৃষিকাজে ব্যাপকহারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার, ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন ইত্যাদি। এছাড়া মহাশোল এর মতো আরো কিছু দেশীয় মাছ স্রোতশীল পাহাড়ী নদীতে বাস করে। কিন্তু পাহাড়ী নদীগুলো সরম্ন ও স্রোতহীন হওয়ায় এসব প্রজাতি হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, মাছের বিলুপ্তি হওয়ার কারণ সম্পর্কে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি গবেষণা চালানো হচ্ছে।

মৎস্য অফিস জানায়, সিলেটে মোট জলাশয় রয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৫৬ হেক্টর। শহর ও গ্রাম পর্যায়ে পুকুরের সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৩০টি, নদী ২৬৯টি, খাল আছে ৩৬০টি, বিল রয়েছে ১ হাজার ৯৮টি, পাবন আছে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪০০ হেক্টর। শুধুমাত্র মাছ চাষে ব্যবহৃত জমির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৬৭ দশমিক ৪৪ হেক্টর।

বেসরকারি এক সমীক্ষায় জানা যায়, সিলেটের হাওর এলাকায় রিটা, বাঘা, আইড়, খাইড়া, চেনুয়া, ক্ষোতমাছ, মহাশোল, নান্দিনা, জাঙ্গল ইত্যাদি প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবে আশার কথা সিলেটের অন্যতম মাছ অভয়াশ্রম টাঙ্গুয়ার হাওর ও শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর এবং হাকালুকিতে এসব প্রজাতি রক্ষা করতে সচেষ্ট রয়েছে প্রশাসন। তবে সংশিস্নষ্টরা বলছেন, দিন দিন বিলুপ্ত হতে যাওয়া দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় সকলকেই সচেতনভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
পাতাটি ২৬৫৩ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবনাক্ত জমিতে ভূট্রা চাষ

»  জয়পুরহাটে শসা চাষে স্বাবলম্বী কৃষক

»  কলাপাড়ায় তরমুজ চাষে সাফল্য

»  কেশবপুরে জমে উঠেছে আখ হাট

»  পদ্মার চরে বাদাম চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে