Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 লটকন যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

২০ নভেম্বর ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   বিভিন্ন ব্যাবসা বানিজ্য  
লটকন যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

গৌরীপুরে উৎপাদিত দেশীয় ফল লটকন এখন অর্থকরী ফল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। যা এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানী হচ্ছে। কোন প্রকার চাষাবাদ ও পরিচর্যা ছাড়াই প্রকৃতিগতভাবে বিভিন্ন বনে-জঙ্গলে জন্ম নেয়া লটকন ফল (দেশীয় নাম ‘বুবি’) এখন অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। প্রচুর পুষ্টি গুণে ভরপুর লটকন ফল বিক্রি করে গৌরীপুরের লটকন বাগানের মালিকরা প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে পানি জমে না এমন উচু জায়গায় ঘন ঝোপ-জঙ্গলের নিবিড় ছায়ায় লটকন ফলের গাছ বংশ বিস্তার করে থাকে। বিশেষ করে পাকা লটকন ফল ভক্ষণকারী পশু-পাখির বিষ্টা থেকেই বেশী বংশ বিস্তার হয়ে থাকে। এ ছাড়া পাকা লটকন ফল গাছের নীচে পড়েও অতি সহজে এই গাছের চারা গজিয়ে থাকে। এক সময় মানুষের অপছন্দনীয় এ ফলটি কালের আবর্তে বর্তমানে বেশ চাহিদা সম্পন্ন। গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বৃ-বড়ভাগ, কিসমত বড়ভাগ, স্বল্প বড়ভাগ, গোবিন্দনগর, কাশিমপুর, রামজীবনপুর, ইয়ারপুর, অচিনত্মপুর ইউনিয়নের অচিনত্মপুর, গাগলা, ২নং গৌরীপর ইউনিয়নের কোনাপাড়া, মাওহা ইউনিয়নের বীর আহাম্মদপুর, সহনাটি ইউনিয়নের সোনাকান্দি, রাইশিমুল, ধোপাজাঙ্গালিয়া, পাছার, রামগোপালপুর ইউনিয়নের ভবানীপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে প্রায় শতাধিক একর জমির ঘনজঙ্গলে প্রায় ৮০হাজার লটকন ফলের গাছ রয়েছে। এ সকল গাছ থেকে কোন প্রকার উৎপাদন খরচ ও পরিচর্যা ছাড়াই কয়েক দশক ধরে লক্ষ লক্ষ টাকার লটকন ফল উৎপাদন হচ্ছে। গড়ে প্রতিটি গাছে প্রায় ১২ মণ লটকন ফল পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩হাজার টাকা।

প্রতিটি বাগানে ১শ থেকে ১৫শ করে লটকন গাছ রয়েছে। বৃ-বড়ভাগ গ্রামের শাহজাহান, রুহুলআমিন, নজরুল, কাদির মিয়ার বাড়ির আশেপাশে ১৫ একর জঙ্গলাকীর্ণ জমিতে প্রায় ২হাজার লটকন গাছ রয়েছে। এই বাগান থেকে এ বছর প্রায় ৩৫টন লটকন বিক্রি হয়েছে, যার মূল্য প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। প্রতি লটকন মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথেই ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এসে লটকন বাগানের মালিকদের আগাম বায়না করে লটকন কিনে রাখে। পরে ফল পাকার সাথে সাথে ফল প্যাকেটজাত করে নিয়ে যায়। এই ফল দেশের বিভিন্ন বড় বড় শহর ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।

লটকনের এই অর্থকরী দিক বিবেচনায় এনে আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদ, রোগবালাই দমন, চারা উৎপাদন ইত্যাদি নিয়ে ইতিমধ্যে কৃষি সম্পসারণ বিভাগ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জার্মপস্নাজম সেন্টার গবেষণা করছে। সাইপের সহযোগিতায় গৌরীপুর কৃষি সম্পসারণ বিভাগের উদ্যোগে ময়মনসিংহ হর্টিকালচার সেন্টার চারা ও কলম তৈরী করে চাষীদের মাঝে বিক্রি করছে।
পাতাটি ৪৪৫০ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  কৃষিভিত্তিক শিল্পে ঋণ বিতরণ ২৪ শতাংশ বেড়েছে

»  মসলা চাষে কৃষকের আগ্রহ কমছে

»  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাটের বাজারে চাঙ্গাভাব বর্ধিত দাম পেল না কৃষক

»  ঝালকাঠিতে গুটি ইউরিয়া প্রযুক্তির ওপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

»  পাটজাত পণ্যে নগদ সহায়তায় নতুন শর্ত