Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 স্ট্রবেরি চাষে স্বপ্ন পূরণ

২১ নভেম্বর ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   ইন্টারভিউ  
স্ট্রবেরি চাষে স্বপ্ন পূরণ

নজরুল ইসলাম শিশির পেশায় একজন শিক্ষক। ১৯৯৯ সালে তিনি শিশুদের একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। স্কুলটির নাম ‘ দি চাইল্ড প্যারাডাইস একাডেমি।’ স্কুলটিকে শিশির মাল্টিমিডিয়া স্কুল রূপান্তরিত করতে চান। শিশিরের কাছে যে টাকা আছে তা দিয়ে তিনি কোন রকমে স্কুলটিকে মাল্টিমিডিয়া স্কুলে রূপান্তরিত করতে পারেন। আর ঠিক সেই সময়ে স্ট্রবেরি চাষের বিষয়টি তার মাথায় আসে। শিশির ভেবে দেখেন যে টাকা বিনিয়োগ করে তিনি স্কুলটিকে মাল্টিমিডিয়া স্কুলে রূপান্তর করবেন, সেই পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ তিনি স্ট্রবেরি চাষ করতে পারেন। আর স্ট্রবেরি চাষের আয় থেকেই পরের বছর তিনি তাঁর ইচ্ছাটি পূরণ করতে পারেন। তাই তিনি বন্ধু জাহাঙ্গীর আলম নবীনের পরমর্শে শুরু করেন স্ট্রবেরি চাষ। এ ব্যাপারে তাঁকে উৎসাহ দেন তাঁর স্ত্রী রাজিয়া ইসলাম সুলতানা ও ছোট ভাই শিমুল, আজহার ও আশরাফ।

১৯৯৩ সালে শিশির পড়াশুনার জন্য সাইপ্রাসে যান। সাইপ্রাসের আইয়ানাপা নামক জায়গায় তিনি স্ট্রবেরিব চাষ দেখেন সর্বপ্রথম। সুস্বাদু আর মিষ্টি গন্ধযুক্ত ফল অনেকের মত তাঁকেও আকর্ষণ করে। খুবই দামি হওয়ায় বাংলাদেশী ছাত্র শিশিরের পক্ষে এ ফল কিনে খাওয়ার সামর্থ তখন হয়নি। পরবর্তীতে কয়েকদিনের মধ্যেই স্ট্রবেরি চাষী মিঃ আন্দ্রেআজের সাথে গড়ে ওঠে বন্ধুর সম্পর্ক। প্রতি রবিবারের (সাপ্তাহিক ছুটি) পার্ট টাইম কর্মী হিসাবে আন্দ্রেআজের স্ট্রবেরি বাগানে কাজ করেন শিশির। দিনে ফল তোলা বাবদ ১২ পাউণ্ড আর ইচ্ছামত স্ট্রবেরি খেয়েই সেবারের মত তৃপ্তি নিয়েই সাইপ্রাস থেকে দেশে ফিরেন শিশির।

১৯৯৯ সালে দেশে ফিরে শিশুদের স্কুল নিয়েই তিনি কাটিয়ে দেন ১৩ বছর। এই ফাঁকে নিজের পড়াশুনা চালিয়ে নিয়েছেন। বি,এ ডিগ্রির পর তিনি ১৩ বছরে বি.এড, এম.এ, এবং এম.এড ডিগ্রি অর্জন করেছেন ইতোমধ্যেই। সামনের লক্ষ্য শিক্ষা কিংবা লোক বিষয়ক পি,এইচ,ডি ডিগ্রি। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে স্ট্রবেরি চাষের টিভি সংবাদ দেখে তাঁর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয় স্ট্রবেরি চাষে। ১৩ বছর আগে সাইপ্রাসে দেখে আসা স্ট্রবেরি চাষ নিজ দেশেই শুরু করার সংকল্প আঁকেন শিশির। ২০০৯ সালে জয়পুর গ্রামের জনৈক হযরত আলীর কাছ থেকে তার ৫০ শতক জমি তিন বছরের জন্য ৩৬০০০ টাকায় ভাড়া নিয়ে ‘প্যারাডাইস স্ট্রবেরি চাষ প্রকল্প’ শুরু করেন। মাত্র ২ মাস পরই সাফল্য উঁকি দিতে থাকে। প্রথম বছরেই শিশির ২,৫০,০০০ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি করেন। শিশিরের সাফল্যের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয় স্ট্রবেরির চারা উৎপাদনের মাধ্যমে। শিশির ২০১১ সালের ফল উৎপাদনের জন্য নিজের বাগানের জন্য চারা উৎপাদনের (১০,০০০ চারা, ২০ টাকা দরে ২,০০,০০০ টাকা) পাশাপাশি আরও ৫০,০০০ চারা উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। ইতোমধ্যে শিশির ১৫,০০০ চারা বিক্রির বুকিং ও নিয়েছেন। শিশিরের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, তিনি কম করে হলেও ৬,০০,০০০ টাকার চারা বিক্রি করতে পারবেন।

নতুন করে ফল উৎপাদনের জন্য আবার ২০১০ সালে নভেম্বরে চারা লাগানো হবে। ২০১১ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই স্ট্রবেরি উঠানো শুরু হবে। ২য় বছরের স্ট্রবেরি বিক্রি করে তিনি কমপক্ষে ৭,০০,০০০ টাকা আয় করবেন বলে আশাবাদী। ১৫ বছর আগে দেখা স্বপ্নের ফল স্ট্রবেরি এখন নিজের বাগানে চাষ করছেন শিশির এবং সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নই আজকের সফল স্ট্রবেরি চাষী নজরুল ইসলাম শিশির। শিশির পেশায় একজন শিক্ষক। এজন্য ঈশ্বরগঞ্জ শহরে তিনি শিশির স্যার বলে সমোধিক পরিচিত। স্ট্রবেরি চাষের সুবাদে এলাকায় তিনি এখন ‘স্ট্রবেরি শিশির’ হিসাবেও অনেকের কাছে পরিচিত। এলাকার আত্মপ্রত্যয়ী যুব-বেকারদের কাছে তিনি এখন মডেল হিসাবে গন্য। তাঁর পরামর্শ অনেক যুব ও বেকারের বেকারত্ব গোছানোয় কাজে লেগেছে।


শিশিরের স্ট্রবেরি বাগান নিয়মিত পরিদর্শনের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনাব মাহমুদুল হাসান তাঁর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। এজন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব নজরুল ইসলাম ও জনাব সামছুল আলম খন্দকার নিয়মিত তাঁর স্ট্রবেরি বাগান দেখাশুনা করতেন। এছাড়াও গৌরীপুরে কর্মরত প্রতিবেশী ও বন্ধুস্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বাবু চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস স্ট্রবেরি চাষের শুরু থেকেই শিশিরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছেন। চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস জানান, একবিঘা জমিতে ৪-৬ হাজার স্ট্রবেরি চারা লাগানো যায় এবং ৮-১২শ কেজি ফল তোলা যায়। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, বানিজ্যিক ভিত্তিতে স্ট্রবেরি চাষ খুবই লাভজনক। এছাড়া দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে এর কদর বাড়ছে প্রতিনিয়ত। স্ট্রবেরি ক্যান্সার প্রতিরোধক আর ভিটামিন এ, ই ও সি এর উৎস হিসাবে কাজ করে।

স্ট্রবেরি দিয়ে বিভিন্ন পন্য সামগ্রী তৈরি নিয়ে শিশির এখন মহাব্যস্ত। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি বিভাগের সহায়তা নিয়ে স্ট্রবেরি জুস, স্ট্রবেরি জেলি, স্ট্রবেরি জ্যাম ও স্ট্রবেরি স্কোয়াস তৈরির কাজ শুরু করেছেন। ঈশ্বরগঞ্জ ও গৌরীপুর উপজেলার কৃষি প্রযুক্তি ও বৃক্ষ মেলায় তাঁর উৎপাদিত স্ট্রবেরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করেছেন। স্থানীয় উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ তাঁর উৎপাদিত স্ট্রবেরি পন্য খেয়ে তাঁর প্রশংসা করেন। ঈশ্বরগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব সৌমেন্দ্রকিশোর চৌধুরী নিজে শিশিরের স্টলে যেয়ে তাঁর সাথে কথা বলেন স্ট্রবেরি জুস ও স্ট্রবেরি জেলি কিনেন। তিনি তাঁর পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁর উপজেলায় স্ট্রবেরি চাষ ও স্ট্রবেরি পন্য উৎপাদনের জন্য শিশিরকে ধন্যবাদ জানান।

এ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যের নিম্নের ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন -

নজরুল ইসলাম শিশির
ব্যবস্থাপনা পরিচালক-
প্যারাডাইস এগ্রোগ্রিন
ইসলামপুর রোড, ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ।
ফোন : ০১৮২২-৮৮৭৮১৪, ০১৭১২-৭০৫০২১।
পাতাটি ২২৮৪ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  সফলকৃষক কুমার দুধ বংশি

»  মিষ্টি কুমড়া চাষ করে ভাগ্যোন্নয়ন

»  কুল চাষ করে স্বাবলম্বী বিপুল

»  সফল খামারি গাজী আব্দুল মালেক

»  মুরগি খামার করে স্বাবলম্বী সোহেল