২১ জানুয়ারী ২০১৯


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   গবাদি পশু পালন  
কার্তিক মাসে গবাদিপশুর জন্য যা করবেন


কার্তিক মাসের মধ্যেই গবাদিপশুকে কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে। কার্তিক মাস থেকে রাতে কুয়াশা পড়া শুরু হয়, তাই গবাদিপশুকে এ সময় ঘরে রাখুন। এসময় পানিতে জন্মে এমন কোনো কোনো উদ্ভিদ গবাদিপশুকে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে খড়ের সঙ্গে খাওয়াতে পারেন। এ মাসেও ভুট্টা, মাষকলাই, খেসারি বীজ বপন করতে পারেন। পরে এসব কচি ঘাস হিসেবে গরু-বাছুরকে খাওয়ানো যায়।

এ মাসে গর্ভবতী গাভীর প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখুন। সদ্য ভূমিষ্ঠ বাছুরকে গাভীর ওলানের প্রথম দুধ অবশ্যই খাওয়াবেন। গর্ভকালের ৭ মাস পর্যন্ত গাভীর পরিচর্যা, খাদ্য সরবরাহ, দুধ দোহন স্বাভাবিকভাবেই চলবে। ৭ মাস থেকে দুধ দোহন বন্ধ করে দিতে হবে। যদি দেখা যায় দুধের প্রবাহ বন্ধ হচ্ছে না, তখন দানাদার খাদ্য সরবরাহ কম করে শুধু খড় জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করলে দুধের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। দুধ দোহন বন্ধ করে দিয়ে ৮ মাস থেকে বাচ্চা প্রসব পর্যন্ত গাভীকে সুস্থ রাখার জন্য উন্নত মানসম্পন্ন সুষম খাদ্য খেতে দিন। যেসব সুষম খাদ্য খেতে দেবেন তা হলো—উন্নত জাতের কাঁচা ঘাস, খইল, ভূষি, ডাল, ঝোলাগুড়। সেই সঙ্গে গর্ভবতী গাভীকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস জাতীয় খনিজ পদার্থ সম্পূরক খাদ্য মিশ্রিত করে খেতে দেবেন।

প্রসবের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে গাভীর খাদ্যের পরিমাণ আস্তে আস্তে কমিয়ে দিতে হবে। পায়খানা পরিষ্কার এবং শরীর ঠাণ্ডা থাকে এ জাতীয় খাদ্য গাভীকে খেতে দিন। গাভী গর্ভবতী থাকার সময় এদের শক্তভাবে ছোট করে বেঁধে রাখবেন না। বরং আলাদা করে একটু বড় ঘরে রাখবেন—এতে করে গাভী সহজেই নড়াচড়া করতে পারবে। ঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে জীবাণুনাশক ওষুধ দ্বারা শোধন করে নেবেন।

এ মাসে গৃহপালিত পশুপাখির মড়ক দেখা দিতে পারে। এ জন্য বিলম্ব না করে গবাদিপশুকে তড়কা, গলাফুলা এবং মোরগ-মুরগিকে রাণীক্ষেত রোগের প্রতিষেধক টিকা দিয়ে নিন। হাঁস-মুরগির কলেরা রোগের প্রতিষেধক টিকাও এসময় দিয়ে নিতে পারেন।
পাতাটি ২৯১০ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  ইনকিউবেটর পদ্ধতি পোল্ট্রিশিল্পের সম্ভাবনা

»  কোরবানীর জন্য গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি

»  বাছুরের পরিচর্যা

»  গাভীর দুধের উত্পাদন যেভাবে বাড়াবেন

»  গ্রোথ হরমোন ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি