Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 শীতকালে বেগুন চাষ

২১ আগষ্ট ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   শাক-সব্জীর চাষ  
শীতকালে বেগুন চাষ

বেগুন সারা বছর পাওয়া যায়। দেশের সব জায়গায় এবং বসতবাড়িতেও চাষ করা যায়। এটা শীতেই সবচেয়ে ভালো হয়। কেননা গরমকালে তাপমাত্রা বেশি থাকায় বেগুনের ফুল ও ফল উৎপাদন ব্যাহত হয়, পোকা বেশি লাগে।

জাতের কথা : শীতকালে বেগুন চাষ করতে হলে জাত বাছাইয়ে সতর্ক হতে হবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এ পর্যন্ত বেগুনের প্রায় ১৫০টি জাতের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করেছে। এসব জাতের মধ্যে আট-দশটি জাত প্রধান। জাতগুলো হলো­ শিংনাথ, ইসলামপুরী, খটখটিয়া, ঈশ্বরদী-১, দোহাজারী, চ্যাগা, ঝুমকা, কাঁটাবেগুন ইত্যাদি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট দু’টি হাইব্রিড জাতসহ ১০টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে। জাতগুলো হলো­ উত্তরা, তারাপুরী (হাইব্রিড), শুকতারা (হাইব্রিড), কাজলা, নয়নতারা, বারি বেগুন-৬, বারি বেগুন-৭, বারি বেগুন-৮, বারি বেগুন-৯ ও বারিবেগুন-১০। এসব জাতের মধ্যে শীতকালে চাষের জন্য বারি বেগুন-৪ (কাজলা) জাতটি সবচেয়ে ভালো। কেননা বেগুনের আকর্ষণীয় কালচে রঙ ও আকার অনেককে আকৃষ্ট করে। গাছে প্রচুর বেগুন ধরে, মার্চ মাস পর্যন্ত বেগুন পাওয়া যায় অর্থাৎ তাপমাত্রা বাড়লেও তার ধকল সইতে পারে। উচ্চফলনশীল এ জাতের গাছপ্রতি ফলের সংখ্যা ৩০-৩৫, প্রতিটি ফলের ওজন ৫৫-৬০ গ্রাম, হেক্টরপ্রতি ফলন ৫০-৫৫ টন। তাই চোখ বুজে শীতকালে চাষের জন্য এ জাতের বেগুন বেছে নেয়া যেতে পারে। অন্যান্য জাতের মধ্যে ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের জন্য ইসলামপুরী, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য দোহাজারী, রাজশাহী অঞ্চলের জন্য ঈশ্বরদী, যশোর অঞ্চলের জন্য চ্যাগা এবং রংপুর অঞ্চলের জন্য খটখটিয়া ভালো।

শীতকালে চাষের জন্য : বীজতলায় বীজ বুনে সেই চারা সরাসরি জমিতে না লাগিয়ে আরেকটি বীজতলায় দ্বিতীয়বার রোপণ করে চারা হৃষ্টপুষ্ট ও সবল করে লাগালে ভালো হয়। এ জন্য প্রথমে বীজতলায় ঘন করে বীজ ফেলতে হয়। বীজ গজানোর ১০-১২ দিন পর গজানো চারা দ্বিতীয় বীজতলায় স্খানান্তর করতে হয়। বীজতলায় মাটির সমপরিমাণ বালু, কমপোস্ট ও মাটি মিশিয়ে ঝুরঝুরে করে তৈরি করতে হয়।

যেভাবে জমি তৈরি করতে হবে : জমিতে বেড তৈরি করে বেগুন চাষ করা ভালো। এতে বৃষ্টি হলে নিকাশের এবং পরিচর্যা ও চলাচলের সুবিধা হয়। বেডের আকার হওয়া উচিত ৭০ সেন্টিমিটার চওড়া ও জমির দৈর্ঘ্য অনুযায়ী লম্বা।

সার প্রয়োগ : বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্যের অভাব হলে গাছ বাড়ে না। খাদ্যের অল্পতা ফলনের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই বেগুন চাষের জন্য সুষমভাবে সার দেয়া উচিত।

চারা লাগানোর নিয়ম : রোপণ দূরত্ব নির্ভর করে জাত ও মাটির উর্বরতার ওপর। দুই বেডের মাঝে ৩০ সেন্টিমিটার চওড়া ও ২০ সেন্টিমিটার গভীর নালা রাখা উচিত। সারিতে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব যেন ৪৫-৫০ সেন্টিমিটার হয়।

সেচ দেয়া : বেডের দুই পাশের নালা দিয়ে জমিতে সেচ দেয়া সুবিধাজনক। নালায় সেচের পানি বেশিক্ষণ ধরে রাখা যাবে না। গাছের গোড়া পর্যন্ত মাটি ভিজে গেলে নালার পানি ছেড়ে দিতে হবে।

লেখক: মৃত্যুঞ্জয় রায়
পাতাটি ৪২২৩ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  আইলে ঝিঙার চাষ

»  টমেটো চাষ পদ্ধতি ও পরিচর্যা

»  ফুলকপি চাষ

»  বিষমুক্ত শাক-সব্জীর চাষ

»  ধনেপাতার চাষ