২১ জানুয়ারী ২০১৯


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   গবাদি পশু পালন  
গবাদিপশুর চিকিৎসায় আকুপাংচার


সুচ ফুটিয়ে রোগ নিরাময়ের চিকিৎসা পদ্ধতি অকুপাংচার বহু প্রাচীন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। ব্যথা কিংবা কঠিন রোগ নিরাময়ে খুব কার্যকরী। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই উৎকর্ষের যুগেও এর জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি, বরং পরিধি আরো বেড়েছে। পরিধি বেড়েছে বলতে নিত্যনতুন রোগের চিকিৎসায় যে ব্যবহার করা হচ্ছে শুধু তা-ই নয়, পশুর চিকিৎসায়ও এর সূচনা হয়েছে।

ঘোড়ার ওপর প্রথমবারের মতো এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগে সাফল্যের দেখা পেয়েছেন ভার্জিনিয়া মেরিল্যান্ড রিজিওনাল কলেজ অব ভেটেরিনারি মেডিসিনের প্রফেসর ড. মার্ক ক্রিসম্যান। জিপসি নামের ঘোড়ার পায়ের গোড়ালিতে ইনফেকশন হয়েছিল। ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করা, ব্যথা কমানোর জন্য ক্রিসম্যান প্রচলিত আকুপাংচার পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। সফলতার দেখা মেলে তাতে। ঘোড়ার ব্যথা উপশম হয়। প্রায় একযুগ ধরে তিনি এ বিষয়ে চেষ্টা করে আসছিলেন। শুধু ঘোড়া নয়, বড় কিংবা ছোট যেকোনো ধরনের পশুর ক্ষেত্রেই আকুপাংচার প্রয়োগ করা যেতে পারে বলে ক্রিসম্যান জানিয়েছেন।

ব্যথা কিংবা শুধু ইনফেকশন নয়, চর্মরোগ থেকে শুরু করে মাংসপেশি, হাড় কিংবা নিউরোলজিক্যাল রোগের ক্ষেত্রেও সমভাবে কার্যকর হবে আকুপাংচার। আমাদের দেশে গবাদিপশুর চিকিৎসায় নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ল্যাবরেটরি ডায়াগনসিসের অনুপস্খিতি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের দুষ্প্রাপ্যতা, ওষুধপত্রের অপ্রতুলতার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে একজন পশুচিকিৎসক ইচ্ছে করলেই সফলভাবে গবাদিপশুর চিকিৎসা করতে পারেন না। তাই দেশের পশুস্বাস্খ্যের কাáিক্ষত মানোন্নয়ন এখনো সম্ভব হয়নি।

এহেন পরিস্খিতিতে আকুপাংচার খুব সহজেই প্রয়োগ করা যেতে পারে। চিকিৎসা ব্যয়ের দিক দিয়েও সাশ্রয়ী হবে। এ জন্য আকুপাংচার বিষয়ে পশুচিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পশুচিকিৎসকদের এ বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিলে দেশে গবাদিপশুর চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন সম্ভব।

লেখক: ডা. হাসান মুহাম্মদ মিনহাজে আউয়াল
পাতাটি ২৭১৫ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  ইনকিউবেটর পদ্ধতি পোল্ট্রিশিল্পের সম্ভাবনা

»  কোরবানীর জন্য গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি

»  বাছুরের পরিচর্যা

»  গাভীর দুধের উত্পাদন যেভাবে বাড়াবেন

»  গ্রোথ হরমোন ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি