Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 গো-খাদ্যে মাছের তেল ব্যবহার

২১ নভেম্বর ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   কৃষি তথ্য কনিকা  
গো-খাদ্যে মাছের তেল ব্যবহার

গবাদি পশু গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমনে বিরাট ভূমিকা রাখে। একটি গরু বছরে প্রায় ৭০ থেকে ১২০ কেজি মিথেন গ্যাস নির্গত করে। হজমপ্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে গরুর পাকস্খলীতে এই গ্যাস উৎপন্ন হয়। গড় হিসেবে ১০০ কেজি ধরা হলে তা প্রায় দুইহাজার ৩০০ কেজি কার্বনডাই অক্সাইডের সমান। এক হাজার লিটার পেট্রল পোড়ালে এ পরিমাণ কার্বনডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়। একটি মোটরগাড়ির ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রমের জন্য যদি আট লিটার পেট্রল প্রয়োজন হয়, তবে এ পরিমাণ পেট্রল দিয়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কিলোমিটার পথ চলতে পারে। সে হিসেবে একটি গরু বছরে যে পরিমাণ গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গত করে, একটি মোটরগাড়ি পেট্রল ব্যবহার করে সাড়ে ১২ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলে তার সমপরিমাণ গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গত করে।

পৃথিবীতে বিলিয়ন বিলিয়ন গবাদি পশু গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমনে কী পরিমাণ ভূমিকা রাখছে তা সহজেই অনুমেয়। প্রতি বছর পৃথিবীতে প্রায় ৯০০ বিলিয়ন টন মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হয়, তার মধ্যে গবাদি পশুর কারণে উৎপন্ন হয় এক-তৃতীয়াংশের বেশি। ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন (ফাও)-এর তথ্য মতে, কৃষি খাত থেকে প্রায় ১৮ শতাংশ গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গত হয়­ যা সমগ্র পরিবহন খাত থেকে নির্গত গ্রিন হাউজ গ্যাসের চেয়ে বেশি।

পৃথিবীর মোট ভূ-ভাগের ৩০ ভাগ ব্যবহার করে গবাদি পশু। কৃষিজমির ৩৩ শতাংশে চাষ করা হয় গবাদি পশুর খাদ্য। গবাদি পশুর চারণভূমি তৈরিতে উজাড় হচ্ছে বনভূমি। এ সমস্যা বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকায় দেখা দিয়েছে। আমাজান বনভূমি ধ্বংস করে গড়ে তোলা নতুন এলাকার ৭০ শতাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে চারণভূমি হিসেবে। মিথেন গ্যাস নির্গমন রোধে তাই অনেকেই পরামর্শ দিয়েছেন গবাদিপশুর সংখ্যা কমিয়ে ফেলার। পরামর্শ দিয়েছেন কম পরিমাণে গোশত ও দুগ্ধজাতপণ্য খাওয়ার।

বর্ধিত জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা মেটাতে যেখানে অধিক পরিমাণে গোশত, দুধ উৎপাদনের প্রয়োজন সেখানে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন বন্ধে গবাদি পশু পালন হ্রাস করা কার্যকর সমাধান নয়। অস্ট্রেলিয়া, নিউজল্যান্ডের মতো উন্নত দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিই যেখানে গবাদি পশু পালন, সেখানে ইচ্ছে করলেই তারা গবাদি পশু পালন হন্সাস করতে পারবে না।

গবাদি পশু পালনের ক্ষেত্র সঙ্কুচিত করা হলে তা শুধু অস্ট্রেলিয়া, নিউজল্যান্ড নয় সারা পৃথিবীর অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। অর্থনৈতিক সঙ্কট ত্বরান্বিত করবে। কারণ কোটি কোটি মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পশু পালনের সাথে জড়িত।

এ সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগও হাতে নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে অস্ট্রেলিয়ান কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড রিসার্চ অরগানাইজেশন। এসব উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য গবাদি পশুর খাবারের কার্যকারিতা বাড়ানো। যাতে গবাদি পশু খাদ্য অধিক পরিমাণে হজম করতে পারে। তাতে করে গবাদিপশুর খাবারের সর্বোচ্চ ব্যবহার সম্ভব হবে। বাড়বে পশুর দৈহিক বৃদ্ধি, উৎপাদন, কমবে মিথেন গ্যাস নির্গমন।

CSIRO ২০০১ সাল থেকে উদ্যোগ নিয়েছে গরু, ছাগল, ভেড়া প্রভৃতি গবাদি পশুকে মিথেন ভ্যাকসিন প্রদানের। এই ভ্যাকসিন গবাদিপশুর পাকস্খলীর রুমেনে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া প্রতিহত করে, মিথেন গ্যাস উৎপাদন হন্সাসে সহায়তা করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার মলিকুলার প্ল্যান্ট ব্রিডিং কো-অপারেটিভ রিসার্চ সেন্টার ও নিউজল্যান্ডের রুরাল সার্ভিস গ্রুপ পিজিজি’র যৌথ উদ্যোগে নতুন প্রজাতির ঘাস উদ্ভাবনের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়। যে ঘাস খাওয়ার ফলে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হবে না, গবাদি পশুর স্বাস্খ্য কিংবা উৎপাদনেরও কোনো তারতম্য হবে না। প্রকল্পটি সফলতার অপেক্ষায় রয়েছে।

তবে সম্প্রতি একটি আশার খবর দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনের গবেষকরা। তা হচ্ছে গবাদি পশুর খাদ্যের ওমেগা ৩ রয়েছে এমন মাছের তেল ব্যবহার করা। গবাদি পশুর খাবারে মাত্র দুই শতাংশ মাছের তেল ব্যবহারে মিথেন গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে হন্সাস পায়। এ গবেষণা কর্মের প্রধান গবেষক ড. লরিয়েন লিলিস জানিয়েছেন, মাছের তেল রুমেনে অবস্খানকারী মিথেন উৎপাদনকারী মিথেনোজেন ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধ করে। ফলে মিথেন গ্যাস উৎপাদন হন্সাস পায়।

ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। মানবস্বাস্খ্যের জন্য যেমন উপকারী তেমনি গবাদি পশুর স্বাস্খ্যের জন্যও সমভাবে উপকারী। এটি হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ভালো রাখে এমনকি গোশতের গুণগত মান বৃদ্ধি করে।

বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি। তা ছাড়া শ্যামন, ম্যাকেরেল, হেরিং, এলবাকর টোনা ইত্যাদি মাছেও উচ্চমাত্রায় ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। গবাদি পশুর খাবারে মাছের তেল ব্যবহার করা খুব সহজ এবং সাধারণ একটি প্রক্রিয়া। তবে এর সঠিক প্রয়োগ হ্রাস করবে মিথেন গ্যাস নির্গমন। গবাদি পশুর স্বাস্খ্য উন্নয়ন ও গোশতের গুণগত মান বৃদ্ধিতে খাবারে তাই মাছের তেল ব্যবহারে সচেতন হওয়া উচিত। তাতে রক্ষা পাবে পরিবেশ, বাসযোগ্য থাকবে আমাদের পৃথিবী।

লেখক: ডা. হাসান মুহাম্মদ মিনহাজে আউয়াল
পাতাটি ২৩১২ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  লাল ঢেঁড়সের জাত উদ্ভাবন

»  বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় পামওয়েল

»  দুধ উত্পাদন বৃদ্ধির তিনটি কৌশল

»  স্ত্রী ও পুরুষ চিংড়ি চেনার উপায়

»  পেপের নানা গুণ