Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 সরিষা চাষের সময় এখনই

১৭ নভেম্বর ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   শাক-সব্জীর চাষ  
সরিষা চাষের সময় এখনই

বাংলাদেশের ভোজ্যতেলের প্রায় ৬০ ভাগ আসে সরিষার তেল থেকে এবং এটিই আমাদের ভোজ্যতেলের প্রধান ফসল। বিভিন্ন জাতের সরিষা বীজে ৩৮-৪৪% তেল থাকে আর বাকিটা খৈল ২৫% ও ৪০% আমিষ। এই খৈল গৃহপালিত পশুর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে প্রতি হেক্টরে সরিষার ফলন হয় ৬০০- ৭২৫ কেজি। দেশের অঞ্চল ভেদে ফলন বেশি ও কম হতে পারে। বাংলাদেশের তেল বীজ উৎপাদনের অধীনে জমির পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর। অথচ তেল বীজ চাষের উপযোগী জমির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর। সম্ভাব্য গড় উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ১.৫ থেকে ২.০ টন। বাংলাদেশের অঞ্চল ভেদে এখন বা সময় অনুযায়ী রোপা আমন বা বোনা আমন ফসল তুলে ফেলার পর করা যায় সরিষার চাষ।

বিনা সরিষার জাত
সফল ও অগ্রণী জাতের ফলন সর্বোচ্চ হেক্টর প্রতি ২.৪ থেকে ২.৭ টন। প্রচলিত অন্যান্য জাতের তুলনায় সফল ও অগ্রণীর গাছ মোটা ও শক্ত। গাছ সহজে মাটিতে ঢলে পড়ে না। অল্টারনারিয়া রোগ সহ্য ক্ষমতাসম্পন্ন।

চাষ পদ্ধতি

জমি ও মাটি : এঁটেল দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ এবং দো-অঁশা মাটিতে সফল ও অগ্রণী জাতের সরিষা ভালো হয়। তবে এ জমিতে পানি সরানোর সুব্যবস্থা থাকতে হবে।
বীজ বপনের সময় : অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বীজ বপন করতে হবে। তবে নভেম্বরের ১৫ তারিখ পযর্ন্ত বপন করা যায়।

জমি তৈরি : জমিতে জো আসার পর মাটির প্রকারভেদে ৪- ৬টি চাষ ও মই দিয়ে বীজ বপন করতে হয়। মাটিতে রসের অভাব হলে বীজ বপনের আগে হালকা সেচ দিতে হবে।

সার প্রয়োগ : হেক্টর প্রতি সারের পরিমাণ ছকে দেয়া হলো। এতে ফলন ২৫০০ পযর্ন্ত পাওয়া যেতে পারে। সার প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে পরিচর্যাও করতে হবে।
সারের নাম সারের পরিমাণ (কেজি/হেক্টর)

উইরিয়া............................................................২৬৫-২৮০ কেজি
টিএসপি.......................................................... ১৭৫-১৮০ কেজি
মিউরেট অব পটাস............................................... ৫০-৬৫ কেজি
জিপসাম................................................. ........ ২৫০-২৯০ কেজি
সরিষার জমিতে সালফার (জিপসাম) প্রয়োগ উৎপাদন ৪০% পর্যন্ত বাড়াতে পারে।
সার প্রয়োগ ও সেচ অনুক্রম কেজি/হেক্টর
জমি তৈরি ৫-৪০ দিন সময় ৪০-৬০
সারের নাম সার প্রয়োগের সময়
জৈব সার সম্পূর্ণ পরিমাণ
ইউরিয়া ১৩৫ ১৩৫
টিএসপি সম্পূর্ণ পরিমাণ
এমপি সম্পূর্ণ পরিমাণ
জিপসাম সম্পূর্ণ পরিমাণ
ঘাটতি দেখা দিলে
বোরাক্স ৫ (স্প্রে) ৫ (স্প্রে)
ডলোচুন ৩০০
মলিবডেনাম ১ (স্প্রে) (স্প্রে)
পানি সেচ প্রথমবার দ্বিতীয়

- অর্ধেক পরিমাণ ইউরিয়া এবং সব টিএসপি, এমপি ও জিপসাম সার জমি তৈরির সময় মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

- বাকি অর্ধেক ইউরিয়া বীজ বপনের ৩৫-৪০ দিন পর যখন চারা গাছে ফুল আসতে শুরু করবে তখন ছিটিয়ে দিতে হবে ।

- ভোরবেলা গাছে শিশির থাকে সার ছিটালে গাছের পাতায় লেগে থাকে তাই গাছের পাতা পুড়ে যেতে পারে সে জন্য বিকাল বেলা সার ছিটাতে হবে।

বীজ বপন পদ্বতি
১. বীজ ছিটিয়ে বা সারিতে বপন করা যায়। সারিতে বপন করলে লাঙ্গল দিয়ে নালা কেটে গর্তে বীজ ফেলে তা মাটি দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে দিতে হবে।
২. সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-২৫ সেন্টিমিটার বজায় রাখতে হবে এবং সারিতে ৪-৫ সেন্টিমিটার বজায় রাখা দরকার।
৩. বীজ ছিটিয়ে বপন করলে ভালোভাবে মই দিয়ে বীজ ঢেকে দিতে হবে।
৪. গাছ বেশি ঘন হলে পাতলা করে দিতে হবে।

বীজের পরিমাণ
ছিটিয়ে বপন ৭.০- ৮.০ কেজি/ হেক্টর
সারিতে বপন ৪-৬ কেজি/ হেক্টর
জমিতে আগাছা দেখা দিলে বীজ গজানোর ২০-২৫ দিনের মধ্যে নিড়ানি দিয়ে পরিষ্কার করে দিতে হবে।

পানি সেচ
চারা গজানোর ৩৫-৪০ দিনের মধ্যে সেচ দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। দেশের উত্তরাঞ্চলে বীজ বপনের ২০-২৫ দিনের মধ্যে একটি এবং তারপর ২০-২৫ দিন পর আরেকটি সেচ দেয়ার প্রয়োজন হয়।

পোকা দমন
বিনা সরিষার বীজ ব্যাভিস্টিন (২.৫ গ্রাম ) বা বেনলেট (১.৫ গ্রাম) দিয়ে শোধন করতে হবে। অল্টারনারিয়া রোগের আক্রমণ বেশি দেখা দিলে ডায়াথেন এম ৪৫ বা রোভরাল স্প্রে করতে হবে। ফুল ধরা শেষ হলে ১৫ দিন পর পর দুবার স্প্রে করলেই হবে।
জাব পোকার আক্রমণ হলে ফলন কমে যায়। ফুলের কুড়ি আসা শুরু করলে এ পোকা আক্রমণ করে। এ ক্ষেত্রে ডাইমেক্রন ১০০ সিসি বা ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি প্রভৃতি কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

পরাগায়নে মৌমাছি
মৌমাছি সরিষা গাছের পরাগায়নের সাহায্য করে এবং এতে ফলন বৃদ্ধি পায়। তাই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরিষা ফুলে প্রচুর মৌমাছি মধু সংগ্রহের জন্য বিচরণ করে।

ফসল সংগ্রহ
সরিষা গাছে যখন ফল তথা সিলিকুয়া হলুদ রঙের হলে ফসল তুলতে হবে। মাটি নরম থাকলে গাছের গোড়া ধরে টেনে শিকড়সহ তোলা যায়। অন্যথায় মাটির উপরিভাগের গাছের গোড়া কেটে নিতে হবে। তারপর ভালোভাবে ৪-৫ দিন বীজ রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে।

লেখক: উত্তম সরকার
পাতাটি ৩০৫৩ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  আইলে ঝিঙার চাষ

»  টমেটো চাষ পদ্ধতি ও পরিচর্যা

»  ফুলকপি চাষ

»  বিষমুক্ত শাক-সব্জীর চাষ

»  ধনেপাতার চাষ