Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 পাহাড়ে হলুদ চাষ পদ্ধতি

২৬ জুন ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   শাক-সব্জীর চাষ  
পাহাড়ে হলুদ চাষ পদ্ধতি

পাহাড়ি এলাকায় হলুদের গড় ফলন অনেক কম। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ করলে হেক্টরপ্রতি ২৫-৩০ টন ফলন পাওয়া সম্ভব। এখানে ব্যাপকভাবে হলুদ চাষ হলেও তা আধুনিক পদ্ধতিতে করা হয় না। এ জন্য ফলন কম হয়। তাই আধুনিক পদ্ধতিতে হলুদ চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি হলুদের রোগ নিয়ন্ত্রণেও উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাহাড়ে হলুদ তোলার কাজ শেষ হবে। হলুদ তোলার পরই তা বীজ হিসেবে পরের মৌসুমে লাগাতে চাইলে এখনই শোধন করে মজুদ করতে হবে।

জাত ও বপনের সময় : ভালো ফলনের জন্য চাই ভালো জাত। হলুদের ভালো জাত হলো বারি হলুদ-১, বারি হলুদ-২, বারি হলুদ-৩, বারি হলুদ-৪। তুলনামূলকভাবে বারি হলুদ-৩ জাতে রোগবালাই কম হয়। বপন করতে হবে মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে।

বীজ তৈরি : সুস্খ সবল বীজকন্দ নির্বাচন করতে হবে। প্রতিটি বীজকন্দে অন্তত দু’টি চোখ থাকতে হবে। বীজ রোগ ও পোকামাকড়মুক্ত থাকতে হবে। বীজ ধারালো ছুরি দিয়ে কাটতে হবে। বীজ ভাঙা যাবে না। লাগানোর আগে ছায়াযুক্ত স্খানে শুকাতে হবে। প্রতি একরে বীজ লাগবে ২৫ থেকে ৩০ মণ।

বীজ শোধন : যেসব এলাকায় কন্দপচা রোগ বেশি হয় সেসব এলাকায় বীজ রোপণের আগে শোধন করে নিতে হবে। এ জন্য প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ব্যাভিস্টিন/ডায়থেন এম গুলে সেই পানিতে ২০ কেজি হলুদ ৩০ মিনিট চুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর পানি থেকে বীজ তুলে ছায়ায় শুকিয়ে মূল জমিতে লাগাতে হবে।

জমি তৈরি ও বীজ রোপণ : জমি পরিষ্কার করে ভালোভাবে চার থেকে পাঁচটি চাষ দিয়ে তৈরি করতে হবে। চাষের সময় হেক্টরপ্রতি ১০-১৫ টন গোবর বা জৈব সার ও ইউরিয়া বাদে অন্যান্য রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে। কোদাল দিয়ে ঢালু জমিতে এ পদ্ধতিতে জমি তৈরি করে হলুদ লাগাতে হবে। প্রথমে পাহাড়ের জঙ্গল পরিষ্কার করে এক বিঘত দূরত্বে গর্ত করে সেখানে বীজ বপন করতে হবে।

সমতলে বা কম ঢালুতে বপন পদ্ধতি : সারিতে বপন করতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৫০ সেন্টিমিটার। প্রতি সারিতে ২৫ সেন্টিমিটার পরপর বীজকন্দ লাগাতে হবে। লাগানোর পর রোপিত কন্দের ওপরে ৫-৭ সেন্টিমিটার পুরু করে শুকনো খড় বিছিয়ে দিতে হবে।

সার প্রয়োগ : হলুদের জমিতে হেক্টরপ্রতি জৈব সার ১০-১৫ টন, ইউরিয়া ২২০ কেজি, টিএসপি ১২৫ কেজি, এমওপি ২৬০ কেজি, জিপসাম ৩ কেজি ও জিঙ্ক অক্সাইড ১১০ কেজি প্রয়োগ করতে হবে। সম্পূর্ণ জৈব সার, টিএসপি, জিপসাম, জিঙ্ক অক্সাইড ও অর্ধেক এমওপি সার জমি প্রস্তুত করার সাত দিন আগে এবং অবশিষ্ট এমওপি সারের অর্ধেক রোপণের ৫০ দিন পর দুই সারির মাঝে প্রয়োগ করতে হবে। বাকি সার বীজকন্দ লাগানোর ৮০ দিন পর ছিটিয়ে দিতে হবে।

মালচিং : হলুদ লাগানোর পর পাতা বা খড় দিয়ে জমি ঢেকে দেয়া দরকার। এতে জমির রস ঠিক থাকে ও চাষের ফলে আলগা হয়ে যাওয়া মাটি সরে যাওয়া রোধ হয়। সবুজ লতাপাতা দিয়ে ঢেকে দিলে কয়েক দিন পর সেসব পচে জমির মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ করে উর্বরতা বাড়ায়।

আগাছা দমন ও ভেলী বাঁধা : হলুদের জমিতে চারবার নিড়ানি দিয়ে আগাছা সাফ করতে হয়। বীজকন্দ লাগানোর ৩০-২৫ দিন পর প্রথম আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। এরপর রোপণের ৫০, ৮০ ও ১০০-১২০ দিন পর আগাছা নিড়াতে হবে। দুই কিস্তির সার উপরি প্রয়োগের ঠিক আগে আগাছা পরিষ্কার করে সার ছিটাতে হবে। এ সময় সার দেয়ার পর দুই বারই গাছের গোড়ায় মাটি তুলে ভেলী বেঁধে দিতে হবে। এতে হলুদের বাড়বাড়তি ভালো হয়। তা ছাড়া বৃষ্টি হলে ভেলীর নালাপথে সে পানি সহজে জমি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। সে জন্য ভেলীগুলোর শেষপ্রান্তে নিকাশ নালাও রাখা দরকার। পানি জমে থাকলে কন্দ পচে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

লেখক: মৃত্যুঞ্জয় রায়
পাতাটি ৩৩১৮ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  আইলে ঝিঙার চাষ

»  টমেটো চাষ পদ্ধতি ও পরিচর্যা

»  ফুলকপি চাষ

»  বিষমুক্ত শাক-সব্জীর চাষ

»  ধনেপাতার চাষ