Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 বাছুরের পরিচর্যা

১৯ জুন ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   গবাদি পশু পালন  
বাছুরের পরিচর্যা

শুধু গাঁও-গেরামে নয়, আজকাল শহরে অনেকেই একটি কিংবা দুটি গাভী পালন করেন দুধের চাহিদা মেটানোর জন্য। গাভীর দুধের যে গুণ রয়েছে, অন্য কোনো বিকল্প খাদ্যের সঙ্গে তার তুলনা চলে না। সন্তান প্রসবের পর তাকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর যেমন প্রয়োজন, তেমনি একটি বাছুর জন্মের পর তাকেও দুধ খাওয়ানো অপরিহার্য। গাভীর প্রথম গাঢ় হলুদ দুধ ও স্বাভাবিক দুধ বাছুরের পুষ্টিসাধনে বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।

যে কারণে দুধ খেতে দিতে হবে : একটি বাছুর জন্মের পর তার দেহে ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত নগণ্য পরিমাণে থাকে। গাভীর শাল দুধে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে। তাই এই শাল দুধ প্রতিদিন সকালে ও বিকালে বাছুরকে খাওয়ানো প্রয়োজন। শাল দুধ খেয়ে বাছুর রোগ প্রতিরোধ শক্তি অর্জন করতে পারে। শাল দুধে আমিষের গ্লোবিউলিনের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ এন্টিবডি থাকে। এই এন্টিবডি পান করানো ছাড়া বাছুরের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। তাই বাছুর জন্মের ২ ঘণ্টার মধ্যে শাল দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা নিন। শাল দুধ খেলে জন্মের পর বাছুরের পেটের হলুদ বর্ণের মল বেরিয়ে যায়। এতে করে বাছুরের খাওয়ায় রুচি বাড়ে। পেটের অসুখের সম্ভাবনাও কমে যায়।

যেভাবে দুধ খেতে দেবেন : হালকা গরম পানিতে গাভীর ওলান পরিষ্কার করে বাছুরের মুখ ওলানের সঙ্গে লাগিয়ে দুধ খেতে শেখাতে হবে। বাছুরকে দুধ খাওয়ানোর আগে গাভীর অর্থাত্ তার মায়ের প্রত্যেক বাঁট থেকে সামান্য দুধ ফেলে দিতে হবে। তাহলে বাঁটের মুখের ময়লা ও জীবাণু পরিষ্কার হয়ে যাবে। এর পরপরই বাছুরকে দুধ খেতে দেবেন। চাহিদামত দুধ পানের জন্য প্রথম ২ থেকে ৩ দিন বাছুরকে তার মায়ের সঙ্গে রাখুন। অতিরিক্ত শাল দুধ যেন না খায় সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখাও প্রয়োজন। অতিরিক্ত দুধ খাওয়া মানে হজমে ব্যাঘাত ঘটা। একটি বাছুরকে তিন থেকে চার মাস বয়স পর্যন্ত নিয়মিত দুধ খাওয়াবেন। বাছুরের বয়স ৬ মাস হয়ে গেলে তাকে আর দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই।

দুধে যা আছে : দুধ একটি সম্পূর্ণ ও সহজপাচ্য খাদ্য। এতে আমিষ, শর্করা ও চর্বি রয়েছে। বাছুরের বৃদ্ধি সাধনে এসবের খুবই প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, হাড়হাড্ডি গঠনের জন্য প্রয়োজন হয় ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন-এ। দুধে এসবও আছে। সব কথার শেষ কথা হলো, দেহে যেসব পুষ্টির উপাদান দরকার হয়, তার সবই গাভীর দুধে পাওয়া যায়।

বাছুরকে আর যা খেতে দিতে হবে : লবণ একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। বাছুরকে প্রতিদিন পরিমাণমত লবণ ও বিশুদ্ধ পানি অবশ্যই খাওয়াতে হবে। দুধ ছাড়ানোর পর দানাদার খাদ্য যেমন—গমের ভুষি, চালের কুঁড়া, খৈল, ডালের ভুষি, ডাল ভাঙা, শিম ও ডাল জাতীয় ঘাস থেতে দিন। দৈহিক বর্ধনের জন্য দানাদার খাদ্য ও কাঁচা ঘাস বিশেষ করে দানাসহ কাঁচা ঘাস খেতে দিন। ৫ সপ্তাহ বয়স থেকে কিছু কিছু কচি ঘাস সরবরাহ করবেন। ৮ সপ্তাহ বয়সের বাছুরকে দৈনিক দানাদার খাদ্য এবং ১ কেজি উচ্চমানের কচি ঘাস খেতে দিন। ৯৭ দিন থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে বাছুরকে তার মায়ের দুধ খাওয়ানো ছাড়াতে হবে। কোনো ধরনের দুধ সরবরাহ করার প্রয়োজন নেই। উন্নতমানের কচি নরম ঘাস বা চিকন পর্যাপ্ত পরিমাণে কাফস্টারটার ৩ থেকে ৪ কেজি প্রতিটি বাছুরের জন্য প্রতিদিন দিতে হবে। পানি প্রচুর পরিমাণে সরবরাহ করতে হবে।
বাছুরকে গাভীর প্রাথমিক ঘন দুধ খাওয়াতে হবে। প্রসবের সঙ্গে সঙ্গে গাভী যাতে

বাছুরকে চাটে সে ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণত তিন মাসের মধ্যেই বিভিন্ন সংক্রামক রোগের টিকা দেয়ার ব্যবস্থা নেবেন। কৃমিনাশক ওষুধও খাওয়ানোর ব্যবস্থা নিন।

সূত্র: আমার দেশ
পাতাটি ৪০৬৪ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  ইনকিউবেটর পদ্ধতি পোল্ট্রিশিল্পের সম্ভাবনা

»  কোরবানীর জন্য গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি

»  বাছুরের পরিচর্যা

»  গাভীর দুধের উত্পাদন যেভাবে বাড়াবেন

»  গ্রোথ হরমোন ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি