Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 ধনে পাতা চাষ করে ধনী

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   ইন্টারভিউ  
ধনে পাতা চাষ করে ধনী

ধনে পাতা আবাদ করে ধনী হয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের শিক্ষিত তরুণ সিঙ্গাপুর ফেরত রাজু আহমেদ । গত পাঁচ বছরে তিনি সংসারের খরচ মেটানোর পর অন্তত বিশ লাখ টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। শুধু নিজ গ্রাম নয়, আশপাশের গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর খ্যাতি। রাজুর দেখাদেখি বর্তমানে গাড়াবাড়িয়া গ্রামটিতেই শতাধিক শিক্ষিত তরুণ-যুবক ধনে পাতা উৎপাদনে নেমেছেন এবং সফলও হয়েছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রায় বাড়ির উঠানে নারী-শিশুদের দলবেঁধে বসে ধনে পাতা বাছাই করার দৃশ্য। মাঠে মাঠে দেখা গেছে সবজি চাষ। বাতাসে ভেসে আসে ধনে পাতার মন ভরে যাওয়া ঘ্রাণ। এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হক জানালেন, এবার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে ৬০ হেক্টর জমিতে ধনে পাতার আবাদ করা হয়েছে।

নিজের দিন বদল প্রসঙ্গে রাজু আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, ১৯৯৮ সালে ডিগ্রি পরীক্ষা দেওয়ার পর দেশে চাকরি না পেয়ে দুই লাখ টাকা খরচে সিঙ্গাপুরে যান চাকরি করতে। আশানুরূপ আয় রোজগার না হওয়ায় ২০০০ সালে দেশে ফিরে আসেন । বাড়ি ফিরে চুয়াডাঙ্গার সবজি বিপ্লবের নায়ক হিসেবে পরিচিত এস এম শরীফউদ্দীনের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। শরীফ উদ্দীনের পরামর্শে সবজি চাষে নিজেকে নিযুক্ত করেন। সবজি চাষে বেশ সচ্ছলভাবেই সংসার চলতে থাকে। ২০০৫ সালে জেলার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের মাঠে ধনে পাতার আবাদ দেখে এবং সেখানকার চাষিদের সঙ্গে কথা বলে অনুপ্রাণিত হন। প্রথম বছরেই দুই বিঘা জমিতে ধনে পাতা আবাদ করে খরচ বাদে ৬০ হাজার টাকা লাভ করেন। আনন্দে ওই বছরেই একটি মোটরসাইকেল কেনেন। এরপর থেকে প্রতিবছর সাত বিঘা জমিতে ধনে পাতা আবাদ করতে থাকেন। এ বছরও একই পরিমাণ জমিতে ধনে পাতা আবাদ করেছেন। আষাঢ় মাসে জমিতে লাগানো ধনে পাতা ভাদ্র মাস থেকে বিক্রি করে আসছেন। মূলত ঢাকার কারওয়ান বাজারে আড়তের মাধ্যমে পাতা বিক্রি করা হয়ে থাকে। তিনি জানান, এ বছর সাত বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে দুই লাখ টাকার পাতা বিক্রি করা হয়েছে। মাঠে এখনো প্রায় এক লাখ টাকার পাতা রয়েছে। রোজা ও রোজার আগে ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে প্রতি কেজি ধনে পাতা ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজু বর্তমানে পারিবারিক ১০ বিঘা এবং ৯ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে সমন্বিত কৃষিকাজ করছেন। ১৯ বিঘা জমির মধ্যে বর্তমানে আট বিঘা জমিতে ফুলকপি, সাত বিঘা জমিতে ধনে পাতা, দুই বিঘা জমিতে ভুট্টা ও এক বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করছেন। ধনে পাতা ওঠার পর সেখানে করা হবে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ। তবে, ধনে পাতাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। কারণ, ধনে পাতার আবাদ করে গত পাঁচ বছরে বাড়ি ঘরের উন্নয়ন, জাফরপুর বাজারে তিনটি দোকানের পজেশন এবং মাঠে দুই বিঘা জমি কিনেছেন। সব মিলিয়ে এই সম্পদের মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।

এলাকার প্রবীণ কৃষক আবুল হাশেম জানান, গাড়াবাড়িয়া গ্রামে রাজুই প্রথম ধনে পাতা আবাদ করেন। রাজুর দেখাদেখি সাধারণ কৃষকদের পাশাপাশি শিক্ষিত তরুণ যুবকেরা চাকরির আশায় বসে না থেকে ধনে পাতা ও সবজি চাষে নিজেদেরকে নিয়োজিত করেছেন। তিনি আরও জানান, এঁদের কেউ নিজেদের জমিতে, আবার কেউ বর্গা নিয়েই গ্রামটিতে সবজি বিপ্লব ঘটিয়েছেন। ধনে পাতা আবাদে নিযুক্ত গ্রামের আজমত আলী, আবদুল আজিজ, আখের আলীসহ একাধিক তরুণ-যুবক জানান, ধনে পাতার আবাদ গাড়াবাড়িয়া গ্রামের অনেক নারী-শিশুকে মৌসুমী আয়ের পথ দেখিয়েছেন। দরিদ্র নারী-শিশুরা বছরে তিন-চার মাস ধরে ধনে পাতা বাছাইয়ের কাজ করে থাকেন। বাছাইয়ের কাজে নিয়োজিত সখিনা বেগম জানান, তিনি এবং তাঁর মেয়ে মিলে দৈনিক তিন-চার ঘণ্টা পরিশ্রম করে ২০ থেকে ২৫ কেজি পাতা বাছাই করে থাকেন। এক কেজি পাতা বাছাই বাবদ মজুরি পান পাঁচ টাকা। ধনে পাতার আবাদ গ্রামের গরিব মানুষের আয়ের পথ দেখিয়েছে।
পাতাটি ৪৪১০ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  সফলকৃষক কুমার দুধ বংশি

»  মিষ্টি কুমড়া চাষ করে ভাগ্যোন্নয়ন

»  কুল চাষ করে স্বাবলম্বী বিপুল

»  সফল খামারি গাজী আব্দুল মালেক

»  মুরগি খামার করে স্বাবলম্বী সোহেল