Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 বোরো ধানের বালাই ব্যবস্থাপনা

২১ নভেম্বর ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   রোগবালাই ও প্রতিকার  
বোরো ধানের বালাই ব্যবস্থাপনা

ধানের পাতা মোড়ানো পোকা:লক্ষণ:কীড়া ধানের পাতা লম্বালম্বিভাবে মুড়িয়ে ফেলে এবং পাতার সবুজ অংশ খায়।

প্রতিকার:১. আলোক ফাঁদ ব্যবহার করা; ২. আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে নষ্ট করা; ৩. শতকরা ১৫ ভাগ পাতার ক্ষতি হলে অনুমোদিত যেকোনো একটি বালাইনাশক ব্যবহার করা। হেক্টরপ্রতি ম্যালাথিয়ন ১.১২লি., সুমিথিয়ন ১.০লি., ডাইমেথোয়েট (টাফগর) ১.১২লি., ডায়াজিনন ১.৭০লি., কারবারিল (সেভিন) ১.৭০ কেজি হারে সপ্রে করা।

রোগ ব্যবস্থাপনা:ধানের বস্নাস্ট রোগ:লক্ষণ:১. এ রোগ ধান গাছের তিনটি অংশ আক্রমণ করে। যথা- পাতা, কাণ্ড ও শীষ; ২. প্রথমে পাতায় ছোট ছোট ডিম্বাকৃতির দাগ সৃষ্টি হয় যা পরে দু’প্রান্তে লম্বা হয়ে চোখের মত দেখায়; ৩. দাগের চারদিকের প্রান্ত গাঢ় বাদামী রঙের হয় এবং মধ্য ভাগ সাদা ছাই রঙের দেখায়। অনেকগুলো দাগ একত্রে মিশে পাতা ঢেকে ফেলতে পারে; ৪. এ রোগে কাণ্ডের গিঁট আক্রান্ত হয় এবং কালো দাগ পড়ে। আক্রমণ বেশি হলে কাণ্ড ভেঙে পড়ে; ৫. একইভাবে দুধ অবস্থায় শীষের গোড়ায় পচন দেখা দিতে পারে, শীষ ভেঙে পড়ে ফলে ধান চিটা হয়; ৬. শীষ আসা অবস্থায় আক্রমণ হলে ৮০ ভাগ পর্যন্ত ফলন হ্রাস পেতে পারে।

প্রতিকার:১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জাত ব্যবহার করা। যথা- বিআর ১৫, ১৬, ২৩, ২৫ ও ব্রিধান ২৮, ৩৩; ২. বীজতলা বা জমি ভেজা রাখা; ৩. আক্রান্ত জমিতে ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগ বন্ধ রাখা; ৪. রোগ দেখা দিলে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা যথা এডিফেন ০.২%, হোমাই ০.২%, টপসিন এম ০.২% , হিনোসান হেক্টরপ্রতি ৮০০ মিলি হারে চারা ও থোড় অবস্থায় সপ্রে করা।

ধানের খোলপোড়া রোগ:লক্ষণ:১. কুশি গজানোর সময় প্রথমে ছোট গোলাকার বা লম্বাটে ধরনের ধূসর রঙের জলছাপের মত দাগ পড়ে এবং তা আস্তে আস্তে বড় হয়ে উপরের দিকে সমস্ত খোল ও পাতায় ছড়িয়ে পড়ে; ২. দাগগুলোর কেন্দ্রস্থল খয়েরী রঙ এবং পরিধি গাঢ় বাদামী রঙের হয়। এ অবস্থায় খোল দেখতে কিছুটা

গোখড়া সাপের চামড়ার দাগের মত দেখায়; ৩. ইউরিয়া সার বেশি দিলে, আবহাওয়া গরম ও স্যাঁতস্যাঁতে হলে এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দেয়।

প্রতিকার:১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জাত ব্যবহার করা। যথা- বিআর-১০, ২২, ২৩, এবং ব্রিধান ২৯, ৩২, ৩৯, ৪১; ২. সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করা এবং ইউরিয়া ২ থেকে ৩ কিস্তিতে প্রয়োগ করা; ৩. রোগ দেখা দিলে জমির পানি শুকিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন রাখার পর আবার সেচ দেওয়া; ৪. পটাশ সার ব্যবহার

করা (প্রয়োজনে উপরি প্রয়োগ); ৫. প্রয়োজনে ছত্রাক নাশক ব্যবহার করা। প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি ফলিফুর, ১ মিলি প্রোপিকোনাজল (টিল্ট ২৫০ইসি) বা কনটাফ ৫ ইসি, ১ গ্রাম কার্বেনডাজিম (ব্যাভিস্টিন) হারে সপ্রে করা।

ধানের কাণ্ড পচা রোগ:লক্ষণ:১. এ রোগ সাধারণত কুশি গজানোর শেষ অবস্থায় মাঠে দেখা যায়; ২. রোগ জীবাণু মাটিতেই বাস করে। সেচের পানি দ্বারা রোগ জীবাণু কাণ্ডে আক্রমণ করে; ৩. প্রথমে কুশির বহিঃখোলে ছোট আয়তকার কালো কালো দাগ দেখা যায়। পরে এ দাগ ভেতরের খোলে ও কাণ্ডে প্রবেশ করে। কাণ্ড পচিয়ে দেয় বলে গাছ ঢলে পড়ে ফলে ধান চিটা ও অপুষ্ট হয়।

প্রতিকার:১. রোগ দেখা দিলে জমির পানি শুকিয়ে পরে আবার পানি দেয়া; ২. জমিতে ইউরিয়া কম ও বেশি পটাশ সার ব্যবহার করা; ৩. জমির নাড়া ও খড় ধান কাটার পর জমিতে পুড়িয়ে ফেলা; ৪. প্রয়োজনে ছত্রাকনাশক কুপ্রিয়াভিট (০.৪%). হোমাই, (০.২%), টপসিন এম, (০.২%) বেনলেট (০.২%) ব্যবহার করা।

ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতাপোড়া বা পাতা ঝলসানো রোগ: লক্ষণ:১. এ রোগ চারায় এবং বয়স্ক গাছে দু’ধরনের লক্ষণ দেখা যায়; ২. চারা অবস্থায় একে নেতিয়ে পড়া বা চারা পচা (ক্রিসেক) রোগ বলে এবং বয়স্ক অবস্থায় একে পাতাপোড়া রোগ বলে; ৩. চারার বাইরের পাতা হলদে হয়ে আস্তে আস্তে শুকিয়ে খড়ের রঙে পরিণত হয়; ৪. বয়স্ক গাছে প্রথমে পাতার কিনারায় এবং আগায় ছোট ছোট জলছাপের মতো দাগ দেখা যায়। এ দাগগুলো আস্তে আস্তে বড় হয়ে পাতার দু’প্রান্তে দিয়ে নিচের বা ভেতরের দিকে অগ্রসর হয় এবং আক্রান্ত অংশ বিবর্ণ হতে থাকে ও ধূসর বাদামী বর্ণে পরিণত হয় যা ঝলসানো বা পাতাপোড়া বলে মনে হয়।

প্রতিকার:১. ইউরিয়া সার প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার না করা ও সুষম সার প্রয়োগ করা; ২. সব ইউরিয়া চারা বা কুশি অবস্থায় না দিয়ে ২/৩ কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করা; ৩. রোগ দেখা দিলে জমির পানি শুকিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর আবার পানি দেওয়া; ৪. ধান কাটার পর জমিতে নাড়া ও খড় পুড়িয়ে ফেলা; ৫. আক্রান্ত জমিতে ৫০ থেকে ১০০ গ্রাম পটাশ সার ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে বিকালে সপ্রে করা। অথবা পটাশ সার বিঘাপ্রতি ৫/৬ কেজি হারে উপরি প্রয়োগ করা; ৬. কুশিকালে ঝড়ের পর পরই ইউরিয়া সার ব্যবহার না করা; ৭. কুপ্রাভিট ৪ গ্রাম বা চ্যাম্পিয়ন ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে সপ্রে করা। প্রয়োজনে ১% হারে বর্দ্দোমিকচার ব্যবহার করা যেতে পারে।

লেখক:আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ, সহকারী অধ্যাপক
পস্নান্ট প্যথলজি বিভাগ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
পাতাটি ২৮৮০ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  শসা ও তেঁতুল পাতার বালাইনাশক

»  লিচু ফেটে যাওয়ার কারন ও তার প্রতিকার

»  লিচুর রোগ প্রতিকার ও সার ব্যবস্থাপনা

»  আমের ক্ষতিকর পোকামাকড় ও রোগবালাই

»  স্ট্রবেরি গাছে গোড়াপচা রোগ ও করনীয়