Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 কুষ্টিয়া জেলায় পেয়ারার চাষ

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   কৃষি তথ্য কনিকা  
কুষ্টিয়া জেলায় পেয়ারার চাষ

দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে এ দেশের কৃষকেরা যখন ভাগ্য বদলের খেলায় পরাজিত হতে চলেছেন, ঠিক তখনই প্রযুক্তির সমন্বয়ে পেয়ারা বাগানে সাথী ফসল ফলিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের খেলায় মেতেছে কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলার সহস্রাধিক কৃষক পরিবার। পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল পেয়ারা। বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় রয়েছে এর বাণিজ্যিক চাষাবাদের বিপুল সম্ভাবনা। বিদেশেও এই পেয়ারার ব্যাপক চাহিদা থাকায় রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের বিপুল সম্ভাবনা। কুষ্টিয়ার খোকসায় প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ পেয়ারা চাষ করে স্থানীয় চাষীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন গোপগ্রাম প্রামাণিক বাড়ির কয়েক কৃষক। অতুল বিশ্বাস ৫ বছর আগে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশা থেকে ১০ হাজার টাকা অর্থঋণ সহায়তায় শুরু করে প্রথম পেয়ারা চাষ। সে বছরই ৫০ শতাংশ জমিতে পেয়ারার চাষ করে খরচ বাদে আয় করেন প্রায় ১ লাখ টাকা।

কুষ্টিয়া জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পেয়ারার আবাদ হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন পল্লী ঘুরে দেখা গেছে, পেয়ারা গাছগুলো পেয়ারার ভারে নুয়ে পড়েছে, যার কারণে একাধিক পেলা বা ঠেস দিতে হয়েছে। মাঠে মাঠে দেশি পেয়ারা চাষ কৃষিখাতে খুলে দিয়েছে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার।

গ্রামাঞ্চলের চাষীদের পাশাপাশি বেকার যুবকরাও আশার অর্থঋণ সহায়তায় পেয়ারা চাষের প্রতি ঝুঁকেছেন। জেলার মিরপুর উপজেলার ভাঙ্গাপাড়ার গ্রামের কয়েক যুবক মিলে গড়ে তুলেছেন নিরিবিলি পেয়ারা বাগান। চলতি বছর তারা ২০ বিঘা জমিতে পেয়ারার আবাদ করেছেন। পাশাপাশি পেয়ারার সাথী ফসল হিসেবে লাল শাক, পুঁই, মরিচ, রসুন, আলু ও তিলসহ অন্যান্য সবজির চাষ করছে। খোকসার প্রতিশ্রুতি হর্টিকালচার সেন্টারের সেক্রেটারি আলাউদ্দিন সেখের অভিমত, সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের চাষী ও বেকার যুবকদের পেয়ারা এবং সে সঙ্গে সমন্বিত সবজি চাষে আগ্রহী করে তুললে তা বেকারত্ব দূরীকরণ ও দেশের তৃণমূল অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে। তার বিশ্বাস, পেয়ারা চাষ বদলে দিতে পারে দেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি। খোকসার এক্তারপুর ও বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম এরই মধ্যে পেয়ারা পল্লী হিসেবে আখ্যা পেয়েছে। শুধু দেশি পেয়ারায় নয়, এর পাশাপাশি রয়েছে হাইব্রিড জাতের তাইওয়ান ও কাজী পেয়ারা। নিরিবিলি হর্টিকালচার সেন্টারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রিমন প্রামাণিক জানান, খামারের এক চিলতে জমিও ফাঁকা পড়ে থাকবে না। পেয়ারা গাছের সঙ্গে একই জমিতে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন জাতের সবজি। প্রায় ২০ একর জমি নিয়ে এ সেন্টারটি পেয়ারা চাষে এগিয়ে চলছে আপন গতিতে। শিক্ষিত যুবক রিপন গ্রামে ফিরে হাতে নিড়ানি আর কাঁচি তুলে নিয়েছেন। এখন আর সে চাকরির জন্য হা-পিত্যেস করে না। আশার খোকসা শাখার ম্যানেজারের পরামর্শ ও অর্থঋণ সহায়তায় তার তৈরি করা পেয়ারা বাগানটি দারিদ্র্য বিমোচনের একটি মডেলে পরিণত হয়েছে। পেয়ারা চাষ করে তিনি এখন লাখপতি। জেলার দৌলতপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম হাকিমপুরের সমৃদ্ধ কৃষক আসাদুল হক। ১৬ বিঘা আয়তনের একটি বাগানে জুন মাসে পেয়ারা গাছের চারা রোপণ করেন। মাত্র ১১ মাস বয়সের এসব গাছ এখন থোকা থোকা পেয়ারার ভারে ভেঙে পড়ার উপক্রম। এ মাসেই সুস্বাদু এ ফল বাজারজাত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন আসাদুল হক। তিনি জানান, চারা রোপণ থেকে শুরু করে সব মিলিয়ে প্রতি বিঘায় তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। কোনো অঘটন না ঘটলে প্রতি বিঘা বাগান থেকে কম করে হলে ৫০ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি সম্ভব বলে তিনি মনে করছেন। তবে আবার চারা রোপণের প্রয়োজন না পড়ায় আগামী মৌসুমে উত্পাদন খরচ দুই-তৃতীয়াংশ কমে যাবে। পেয়ারা চাষে সাফল্য লাভকারী আসাদুল হক এখন এলাকার কৃষকদের কাছে মডেল হয়ে উঠেছেন। জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, একবার চারা রোপণ করে ২০ বছর পর্যন্ত এর ফল পাওয়া যায়। ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে ১২ ফুট অন্তর অন্তর চারা রোপণ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। চারা রোপণের জন্য তৈরিকৃত গর্তে ২৫ কেজি গোবর সার, ২৫০ গ্রাম টিএসপি ও ২০০ গ্রাম এমওপি সার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে ৭ দিন পর চারা রোপণ করতে হয়। এ ছাড়া বয়স্ক গাছে দুবার সার দিতে হয়। এ গাছের একমাত্র রোগ ‘পাউডারি মিলভিউ’। তবে সময়মত ছত্রাক নাশক ‘থিওভিট স্প্রে’ করলে এ রোগ দমন সম্ভব। পেয়ারা চাষী রজব আলী জানান, আশার অর্থঋণ সহায়তায় এ বছর ২ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ করেছেন। এরই মধ্যে পেয়ে গেছেন প্রায় ৬০ হাজার টাকা। তিনি আরও দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পাবেন বলে আশা করেন।
পাতাটি ৩৫২৫ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  লাল ঢেঁড়সের জাত উদ্ভাবন

»  বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় পামওয়েল

»  দুধ উত্পাদন বৃদ্ধির তিনটি কৌশল

»  স্ত্রী ও পুরুষ চিংড়ি চেনার উপায়

»  পেপের নানা গুণ