Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 গবাদি পশুর কৃমির সংক্রামণ ও প্রতিকার

২১ জুলাই ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   রোগবালাই ও প্রতিকার  
গবাদি পশুর কৃমির সংক্রামণ ও প্রতিকার


বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে গবাদি পশু পালন একটি লাভজনক প্রকল্প। অনেকে ঘরে বেকার অবস্থায় বসে থেকে কি করবেন ভেবে পান না। তারা কোনো দিকে না তাকিয়ে গরুর খামার দিতে পারেন। তবে খামারে গরু পালন করার সময় মনে রাখতে হবে গরুর বিভিন্ন রোগবালাই রয়েছে। স্থানীয় পশু চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে। গরুর কোনো রকম খারাপ কিছু দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের অন্যতম প্রাণিজ আমিষের উৎস হল মাংস ও দুধ। এদেশের অধিকাংশ মানুষ গরিব। হাতেগোনা কয়েকজন মানুষ আমিষের উপাদানসমূহ তাদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ পায়। দেশের মোট দুধের চাহিদার একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। অপরদিকে খাদ্য হিসেবে প্রাণিজ অংশের একটি বড় অংশ আমদানি করা হয় পাশের দেশ ভারত থেকে। ফলে প্রতিবছর দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা এ খাতে ব্যয় করতে হয়। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে এবং বেকার সমস্যা সমাধানে গরুর খামার দেয়া একটি লাভজনক প্রকল্প। আমাদের খামারিদের নানা সমস্যার পাশাপাশি সম্মুখীন হতে হয় গবাদি পশুর কৃমি নিয়ে। দেশের ভৌগলিক অবস্থার কারণে এ রোগের প্রাদুর্ভাব অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে অনেক বেশি। কৃমির কারণে গাভীর দুধ উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়, বাছুরগুলোর পেট ফুলে গিয়ে স্বাস্থ্যহীন হয়ে পড়ার ফলে দুধ ও মাংস উৎপাদন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর কারণে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফার্গাস ইত্যাদিতে গবাদি পশুকে আক্রমণ করে। কৃমি পশুর অন্ত্রে, ফুসফুসে, লিভারে, চোখে, চামড়ায় বাস করে ও পশুর হজমকৃত খাবারে ভাগ বসিয়ে পশুর বিভিন্ন দিক দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।

অনেক কৃমি পশুর রক্ত চুষে ও আমিষ খেয়ে পশুকে দুর্বল ও স্বাস্থ্যহীন করে দেয়। কৃমি সাধারণত দু’ রকমের হয়ে থাকে। ১. দেহের ভেতরের কৃমি ২. দেহের বাইরের কৃমি। এক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল মধুপুর, টাংগাইলে গত বছর (২০১০) বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত গবাদি পশুর (গরু, ছাগল, ভেড়া) মধ্যে ৫১.৩৬% কৃমি দ্বারা আক্রান্ত হয়। তাদের মধ্যে ৬৮.৯২% গরু যার ভেতর গাভীর সংখ্য ৪৫.১৬%, বাছুরের সংখ্যা ৫০.০৭%। ভেড়ার মধ্যে ৬১.৬৬% ভেড়া এবং ছাগলের মধ্যে ৩৪.৭৯% বিভিন্ন কৃমিতে আক্রান্ত। সুতরাং কৃমি আমাদের গবাদি পশু পালনের অন্যতম প্রধান শত্রু। কৃমির আবার বিভিন্ন নাম আছে। সেগুলো হল- কলিজাকৃমি, পাতাকৃমি, গোলকৃমি, রক্তকৃমি, ফিতাকৃমি, প্রটোজয়া ও বিভিন্ন ধরনের উকুন, অাঁঠালি, মাইট ইত্যাদি।

গবাদি পশুকে কৃমি থেকে মুক্ত রাখতে যা করতে হবে:

১. গবাদি পশুর বাসস্থানের জন্য নির্ধারিত স্থানের মাটি শুষ্ক ও আশপাশের জমি থেকে উঁচু হওয়া প্রয়োজন। সম্ভব হলে নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় থেকে দূরে করতে হবে; ২. গবাদি পশুর খামারের আশেপাশে যেন বৃষ্টির পানি এবং অন্যান্য বর্জ্য জমে না থাকে; ৩. খামারের জন্য নির্ধারিত স্থানের মাটিতে বালির ভাগ বেশি হওয়া প্রয়োজন যেন বর্ষাকালে খামারের মেঝে কর্দমাক্ত না হয়; ৪. পশুর মলমূত্র ও আবর্জনা অল্প সময় পর পর পরিষ্কার করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ঘরে মলমূত্র ও আবর্জনা জমা না থাকে; ৫. খামারের অনেক দূরে পশুর মলমূত্র ও আবর্জনা পুঁতে রাখতে হবে; ৬. গবাদি পশুর বাসস্থান প্রতিদিন জীবাণুনাশক পানি দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে; ৭. তিন মাস পর পর গবাদি পশুকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে।

কলিজাকৃমি, পাতাকৃমি, গোলকৃমি, রক্তকৃমি, ফিতাকৃমি, দ্বারা আক্রান্ত পশুকে এ্যালবেনডাজল ইউএসপি ৬০০ মি.গ্রা., হেকারোক্লোরোফেন ইউএসপি ১ গ্রাম, লিভামিসোল হাইড্রোক্নোরাইড বিপি ৬০০ মি.গ্রা. এবং ট্রাইক্লাবেন্ডাজল আইএনএস ৯০০ মি.গ্রা. জাতীয় ওষুধ দিলে ভাল কাজ করে। কর্কর্সিডিয়াতে সালফোনামাইডস, স্ট্রেপটিমাইসিন ও মেট্রোনিডাজল ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। ট্রিপানোসোমা ও ব্যাবেসিওসিসতে ব্যাবকপ খাওয়ালে রোগ ভাল হয়। উকুন ও মাইটে আক্রান্ত পশুকে আইভারমেকটিন, সেভিন, নেগুভান ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহার করলে কৃমি থেকে রক্ষা করা যায়।

লেখক: ডা. দীপংকর দেব নাথ
পাতাটি ২৫৪৬ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  শসা ও তেঁতুল পাতার বালাইনাশক

»  লিচু ফেটে যাওয়ার কারন ও তার প্রতিকার

»  লিচুর রোগ প্রতিকার ও সার ব্যবস্থাপনা

»  আমের ক্ষতিকর পোকামাকড় ও রোগবালাই

»  স্ট্রবেরি গাছে গোড়াপচা রোগ ও করনীয়