Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 দিনাজপুরে লিচু চাষে বিপ্লব ঘটেছে

২৬ জুন ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   বিভিন্ন ব্যাবসা বানিজ্য  
দিনাজপুরে লিচু চাষে বিপ্লব ঘটেছে

দিনাজপুরের ১৩ টি উপজেলার মধ্যে লিচু রাজ্য হিসাবে পরিচিত বিরল উপজেলা। এখানে উৎপাদিত লিচুর গুণগত মান ও স্বাদে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে রয়েছে এর সুনাম। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া লিচু উৎপাদনে উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা ইতোমধ্যে লিচু চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে। একদিকে তারা পতিত জমি সহ সকল জমির সুষম ব্যবহার অপর দিকে তারা অর্থনৈতিক ভাবে হচ্ছে লাববান। পরিশ্রমের মাধ্যমে ঘটিয়েছে তারা ভাগ্যের উন্নয়ন। পাশাপাশি এখন বিরলের লিচু বাগান অন্য জেলা থেকে আগত মৌয়ালীরা (মধূ সংগ্রহকারী) লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত। যে মধুর কদর রয়েছে স্কয়ার, এপিসহ নামীদামী ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

এ উপজেলায় বিগত ১৫ বছর আগে সকল সমতল, আধা সমতল ও নীচু জমিতে উৎপাদন হত মুসুর ডাল, ঠাকুড়ী কালাই, তিলসহ নানা ফসল। কিন্তু সে সকল জমিতে এখন কৃষকরা লিচুর বাগান করে, পূর্বের থেকে ২/৩ গুনে বেশী লাভবান হওয়ায় তারা লিচু চাষে ঝুঁকে পরেছে। এ উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে গড়ে[ উছেছে লিচু বাগান। বিরলের বিস্তৃত লিচু বাগানগুলি এখন ভরে উঠেছে ফুলে ফুলে। যতদুর দৃষ্টি পরে, দেখা যায় সাদা সাদা থোকা থোকা লিচুর মুকুল। সেই সাথে মৌ মৌ গন্ধে নবযৌবনা হয়ে উঠেছে লিচুর বাগানগুলি। লিচু বাগান এলাকায় সিরাজগঞ্জ জেলার হাটিকুমরুল থানার মধু সংগ্রহকারী দল এসেছে।

কথা হয় ৫নং সদর ইউপির রবিপুর গ্রামের ফারুকের লিচু বাগানে মধু সংগ্রহকারী (মৌয়ালী) দলের প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল এর সাথে। তিনি জানায়, গত বছর ও তারা বিরলের লিচু বাগানে বাক্স পদ্ধতিতে মৌমাছি দিয়ে মধু উৎপাদন করে লাভের মুখ দেখায় এবারেও তারা মধু সংগ্রহ করতে এসেছে এই এলাকায়। মধু সংগ্রহের জন্য মেলিফেরা নামক মৌমাছি তারা নিয়ে আসে। বাক্স পদ্ধতিতে মধু উৎপাদনের পদ্ধতি ও জানান তিনি। প্রতি বাক্সে ৬ থেকে ৯টি ফ্রেম থাকে। বাস্কের মধ্যে থাকে রাণী, পুরুষ ও কর্ম মৌমাছি। মৌমাছির বংশ বিস্তারের পদ্ধতি একটু ভিন্ন ধাচের। বংশবিস্তার করতে গিয়ে রাণী মৌমাছির সাথে মিলিত হওয়ার কিছুক্ষন পর পুরুষ মৌমাছিটি মারা যায় এবং বাসস্থান থেকে ২/৩ কিঃমিঃ থেকে দুরে গিয়ে উড়ন্ত অবস্থায় সংগমে মিলিত হয় রাণী ও পুরুষ মৌমাছি। একবার মিলনে রাণী মৌমাছি ২ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন ৭শত করে ডিম দেয়। যা থেকে জন্ত নেয় কর্ম মৌমাছি। কর্ম মৌমাছিরাই ফুলে ফুলে ধুরে মধু সংগ্রহ করে। প্রকাশ মন্ডল আরো জানান তারা ১০০টি মৌমাছির বাক্স স্থাপন করেছে এ বাগানে। এগুলো থেকে ৭দিন অন্তর অন্তর মধু সংগ্রহ করবে তারা। এক মাসের মধ্যে মধু উৎপাদন হবে প্রায় অর্ধটন। বছরের ৬মাস চিনি ও মধু খাওয়াইয়ে বংশ রক্ষা করতে হয় বাক্সে। বছরের ৬ মাস তারা সরিষা ক্ষেত, কালজিরা, ধনিয়া, তিলক্ষেত ও লিচু বাগানে ঘুরে ঘুরে মধু সংগ্রহ করে। লিচু বাগানে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহের ফলে ব্যাপক পরাগায়ন ঘটে এতে ফল পুষ্ট এবং উৎপাদন বেশী হয়। মৌমাছি দিয়ে মধু উৎপাদনে সমস্যা ও রয়েছে। যে স্থানে বাক্স স্থাপন করা হয় সেখান থেকে ৩ কিঃমিঃ পর্যন্ত দুরে, মধু সংগ্রহ করতে যায় কর্মী মৌমাছিরা। এ সময় কিটনাষক প্রয়োগ করা ক্ষেতে খামারে পরে মারা যায় মৌমাছি। খেজুরের রস পানেও মৌমাছি মারা যায়। সব চেয়ে মজার তথ্য দিলেন মৌয়ালীরা।

তাদের দাবী, এলার্জি ও বাত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড় দিলে রোগ সারে এবং মৌমাছিটিও মারা যায় তবে ১শ দিন পর্যন্ত মৌমাছির কামড় ক্ষেতে হয় রোগীকে। এক দিকে বিরলের লিচুর বাগান মালিকরা লিচু বিক্রি করে পায় নগদ অর্থ, অপর দিকে মৌয়ালীদের আগমনে বহু ঔষধী গুন সমৃদ্ধ মধু উঃপাদনের ও লভ্যাংশ পাচ্ছে তারা । তাই বাগান মালিকদের মুখে হাসি দেখা যায়।
পাতাটি ৩১৫১ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  কৃষিভিত্তিক শিল্পে ঋণ বিতরণ ২৪ শতাংশ বেড়েছে

»  মসলা চাষে কৃষকের আগ্রহ কমছে

»  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাটের বাজারে চাঙ্গাভাব বর্ধিত দাম পেল না কৃষক

»  ঝালকাঠিতে গুটি ইউরিয়া প্রযুক্তির ওপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

»  পাটজাত পণ্যে নগদ সহায়তায় নতুন শর্ত