২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   কৃষি পণ্য  
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবনাক্ত জমিতে ভূট্রা চাষ

বাংলাদেশের আবাদি জমির এক তৃতীয়াংশ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। শুস্ক ও বোরো মৌসুমে এই উপকুলীয় আবাদি জমির প্রায় ১০ লাখ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন মাত্রার লবন থাকে। বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হচেছ এবং কৃষকেরা হেক্টর প্রতি দেড় থেকে দু’ টন ফলন পাচ্ছে। সেচ পানির অভাব ও লবনাক্ততার কারনে ৫ লাখ হেক্টর জমি পতিত থাকছে।

সম্প্রতি কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থ্যায়নে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) কৃষি প্রকৌশল বিভাগের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নাজমুন নাহার করিম এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশিকুর রহমান লবনাক্ত এলাকায় ভু-উপরিস্থিত এবং ভু-নিম্নস্থ সেচ পানির যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শস্যের উৎপাদন ও নিবিড়তা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা হিসেবে সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলার খড়ি ভিলা গ্রামে কৃষকের মাঠে ভূট্রার উপর গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গবেষণার ফলাফল থেকে দেখা গেছে যে, রবি মৌস–মে চার ডিএস পার মিটার মাত্রার লবনাক্ততার মাটিতে এবং ছয় ডিএস পার মিটার মাত্রার ৪ থেকে ৫ টি ভু-উপরিস্থিত বা ভু-নিম্নস্থ সেচ পানির প্রয়োগে ভূট্রার (প্রায় ৬.০ টন/হেক্টর) বাম্পার ফলন হয়েছে। বিনার বিজ্ঞানিরা আশা প্রকাশ করছেন যে, ধান চাষের পাশাপাশি ভূট্রার চাষ করা হলে অনেক লবনাক্ত জমি চাষের আওতায় আসবে, দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধিত হবে। এছাড়াও সেচ পানির সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং ভুর্গভস্থ পানির স্তর নীচে চলে যাওয়া রোধ করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করবে।

কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন, বিএআরসি, ঢাকা এর অর্থ্যায়নে কৃষি প্রকৌশল বিভাগ, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলার খড়িভিলা গ্রামে কৃষকের মাঠে ভূট্রা পরীক্ষণের উপর একটি মাঠ দিবস আয়োজন করে। মাঠ দিবসে সদর উপজেলার দু’শত কৃষক অংশ গ্রহণ করেন। এ সময় মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন বিনার ফিজিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডঃ এ এইচ এম রাজ্জাক, কৃষি প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোঃ আজগার আলী সরকার এবং আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলার প্রশিক্ষন কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইফতেখার আহম্মেদ সদর উপজেলার কৃষি অফিসার জনাব দিপক চন্দ্র রায়, সহ বিনার বিজ্ঞানী ও উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গন্য মান্য ব্যক্তিবর্গ।
পাতাটি ৩৬৭৫ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবনাক্ত জমিতে ভূট্রা চাষ

»  জয়পুরহাটে শসা চাষে স্বাবলম্বী কৃষক

»  কলাপাড়ায় তরমুজ চাষে সাফল্য

»  কেশবপুরে জমে উঠেছে আখ হাট

»  পদ্মার চরে বাদাম চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে