Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 কোরবানীর জন্য গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি

২০ নভেম্বর ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   গবাদি পশু পালন  
কোরবানীর জন্য গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি

কিছুদিন পরেই আসছে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা তথা কুরবানীর ঈদ। সাধারণত বাংলাদেশে মানুষ কোরবানী করার জন্য গরুকেই বেছে নেই। আর সেটা যদি হয় মোটাতাজা তবে আনন্দের সীমা থাকে না। তাই কুরবানীকে সামনে রেখে যেসকল খামারী গরু মোটাতাজাকরণে আগ্রহী তাদের এখনই প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। কিন্তু এজন্য দরকার গরু মোটাতাজাকরণে সঠিক নিয়মাবলী। সাম্প্রতিকালে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ও বিশেষ ক্ষেত্রে কৃষকরাও অধিক লাভের আশায় গরু মোটাতাজা করতে ব্যবহার করছে মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বৃদ্ধিবর্ধক হরমোন ইনজেকশন অথ্যাৎ স্টেরয়েড। এসম্পর্কে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদেও পশুবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই জাতীয় ইনজেকশন গরুর শরীরের কোষকে দ্রুত বিভাজিত করে। অনেক ক্ষেত্রে কোষে পানির পরিমাণ বেড়ে যায় এবং দৃশ্য গরু মোটা দেখায়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ঐসকল গরুর মাংসের পরিমাণ বেশী হলেও তার গুণগতমান অনেককম। অনেকক্ষেত্রে এসকল হরমোনের কারণে গরুও ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন জটিল রোগ হয়ে থাকে। গরু বিক্রয়ের পূর্বে সাধারণত ওই সকল ইনজেকশন ব্যবহৃত করার ফলে তা সম্পূর্ণ ভাবে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আগে জবাই করার ফলে তা গরুর শরীরে থেকে যায় ফলে পরবর্তীতে তা মানুষের শরীরে চলে যায়।

এসকল হরমোন এতটাই মারাত্মক যে মাংস রান্না করার পরও তা নষ্ট হয় না। ফলে তা মানুষের শরীরের গিয়ে অনাকাঙ্খিত বৃদ্ধি, কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গের বিভিন্ন প্রকার রোগের সৃষ্টি করে, অনেক ক্ষেত্রে বন্ধত্বা, মেয়েদের অল্প সময়ে পরিপক্কতা এবং শিশুদের অল্প বয়সে মুটিয়ে যাওয়া তার অন্যতম একটি কারণ এসকল স্টেরয়েড হরমোন। এসকল বৃদ্ধিবর্ধক ইনজেকশন ব্যবহার না করে বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতি গরু মোটাতাজা করে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে খাদ্য ব্যবস্থাপনার দিকে অধিক লক্ষ্য দিতে হবে। বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতি গরু মোটাতাজাকরণ সম্পর্কে ড. আজাদ বলেন- বয়সের উপর ভিত্তি করে সাধারণত ৩-৪ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়। অনেক সময় ৫-৬ মাসও লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচা ঘাস পাওয়া যায়। চাহিদার উপর ভিত্তি করে কুরবানি ঈদের ৫-৬ মাস পূর্ব থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক। তবে গরু জবাই করার পূর্বের একমাস অত্যন্ত গুরত্বের সাথে ব্যবস্থাপনা করতে হয়। কারণ এ সময়ে যেকোন ধরনের অব্যবস্থাপনা গরুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে।

গরু নির্বাচনঃ
উন্নত দেশের মাংসের গরুর বিশেষ জাত রয়েছে। কিন্তু সেসকল জাত আমাদের দেশে না থাকায়। সব দিক মিলিয়ে আমাদের দেশের জন্য শাহিওয়াল ও রেড সিন্ধি জাতের গরু মোটাতাজা করণের জন্য সবচেয়ে ভাল। তবে যেকোন সংকর জাতের এবং অনেকক্ষেত্রে আমাদের দেশীয় জাতীয় গরুকেও মোটাতাজা করা যেতে পারে। ২-২.৫ বছরের গরুর শারীরিক বৃদ্ধি ও গঠন মোটাতাজাকরণের জন্য বেশি ভাল। এঁড়ে বাছুরের দৈহিক বৃদ্ধির হার বকনা বাছুরের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে বাছুরের বুক চওড়া ও ভরাট, পেট চ্যাপ্টা ও বুকের সাথে সমান্তরাল, মাথা ছোট ও কপাল প্রশস্ত, চোখ উজ্জ্বল ও ভিজা ভিজা, পা খাটো প্রকৃতির ও হাড়ের জোড়াগুলো স্ফীত, পাজর প্রশস্ত, বিস্তৃত, শিরদাড়া সোজা হতে হবে।

গরুর খাদ্যের ধরণঃ
গরু মোটাতাজাকরণে গরুকে সুষম ও দানাদার খাদ্য সরবরাহ করার কোন বিকল্প নেই। শুধুমাত্র ধানের খড়ের উপর ভিত্তি করে গরুকে মোটাতাজা করা সম্ভব নয়। গরুকে দানাদার খাবারের সাথে খড়কে বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়া করে সরবরাহ করতে হবে। যেমন- ১০ কেজি খড়কে ৪০০গ্রাম ইউরিয়া মিশ্রণ দিয়ে ভালভাবে মিছিয়ে স্তুপআকারে ১০ দিন রেখে খাওয়ানো যেতে পারে। এছাড়াও খড়ের সাথে চিটাগুড়, বিভিন্ন রাসায়নিক মিশ্রণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ করলে খড়ের পৃষ্টিমান বৃদ্ধিপায়। ফলে গরুও দ্রুত বৃদ্ধিহয়। তবে প্রতিদিন কমপক্ষে ১-২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যে তালিকা দেওয়া হলোঃ

১। গম ভাঙ্গা/ গমের ভুসি————————-৪০ কেজি
২। চালের কূঁড়া———————————-২৩.৫ কেজি
৩। খেসারি বা যেকোন ডালের ভুসি—————-১৫ কেজি
৪। তিলের খৈল/ সরিষার খৈল———————২০ কেজি
৫। লবণ—————————————–১.৫ কেজি

রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাঃ
* প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পশুর গা ধোয়াতে হবে।
* গো-শালা ও পাশ্ববর্তী স্থান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে।
* কমপক্ষে ২-৩ মাস পর পর গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে।
* বাসস্থান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে।
* স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিমিত পরিমাণে পানি ও সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে।
* রোগাক্রান্ত পশুকে অবশ্যই পৃথক করে রাখতে হবে।
* খাবার পাত্র পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
* খামারের সার্বিক জৈব নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে।
* পশু জটিল রোগে আক্রান্ত হলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

পাতাটি ৭২৫৩ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  ইনকিউবেটর পদ্ধতি পোল্ট্রিশিল্পের সম্ভাবনা

»  কোরবানীর জন্য গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি

»  বাছুরের পরিচর্যা

»  গাভীর দুধের উত্পাদন যেভাবে বাড়াবেন

»  গ্রোথ হরমোন ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি