Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 মাছ চাষ করে ঈশ্বরদীর হাবিবের ভাগ্য বদল

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   ইন্টারভিউ  
মাছ চাষ করে ঈশ্বরদীর হাবিবের ভাগ্য বদল

মাছ চাষ করে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছে এক অনন্য দৃষ্টামত্ম স্থাপন করেছেন ঈশ্বরদীর সফল মৎস্য চাষী হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি ঈশ্বরদীর মৎস্য চাষীদের আইডল হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। শুধুমাত্র মাছ চাষ করেই তিনি হয়েছেন কয়েক কোটি টাকার মালিক। একজন ভাল মানুষ হিসেবেও তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। এই মৎস্য খামারের উপার্জিত অর্থ থেকে তিনি অনুদান দিয়ে বেশ কয়েকটি স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিরে আর্থিক সহযোগিতা করে থাকেন।

এছাড়া গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার জন্য, কন্যা দায়গ্রহস্থ পিতাকে এবং অসুস্থ রোগীদের আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করে থাকেন। ঈশ্বরদী উপজেলার মূলাডুলি ইউনিয়নের আটঘরিয়া গ্রামের আলহাজ আব্দুল কাদের শেখ এর ছেলে হাবিবুর রহমান হাবিব পড়াশোনা শেষ করে অন্য কোন পেশায় না গিয়ে ঝুঁকে পরেন মাছ চাষের দিকে। বাবার সামান্য জমিতে ১টি মাত্র পুকুর দিয়ে ১৯৮৬ সালে মৎস্য চাষ শুরু করেন হাবিব। মৎস্য চাষ করে যখন তার আর্থিক অবস্থা ভালো হতে থাকে তখন তিনি এলাকার বিভিন্ন জনের কাছ থেকে পরিত্যক্ত ও অনাবাদি জমি খাজনা নিয়ে তার খামারকে প্রসারিত করতে থাকেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এগিয়ে চলেছেন শুধু সামনের দিকে।

বর্তমানে হাবিবের মৎস্য খামারে ৬২ বিঘা জমিতে পুকুরের সংখ্যা রয়েছে ১৬টি। এক পর্যায়ে হাবিব তার মৎস্য খামারে ব্যক্তিগত ভাবেই গড়ে তোলেন মৎস্য চাষের একটি ট্রেনিং সেন্টার। এই ট্রেনিং সেন্টারে বিভিন্ন বয়সের বেকার মানুষদের বিনা পয়সায় মাছ চাষের উপর ট্রেনিং দেয়া হয়। উপরমত্ম তিনি নাসত্মা এবং দুপুরের খাবারের আয়োজন করে থাকেন। হাবিব তার টেনিং সেন্টারে ৩’শ খামারিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং প্রত্যেককে বিনা পয়সায় ৫ কেজি করে দেশি মাছের পোনা দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে হাবিব ঈশ্বরদীর একজন আদর্শ ও প্রতিষ্ঠিত মডেল মৎস্য চাষি। হাবিববের দেখা দেখি তার এলাকা ও আশপাশের বেকার যুবকেরা পরামর্শ নিয়ে মৎস্য চাষ শুরু করেছে। যারা তার দেখাদেখি শুরু করেছিলেন আজ তারা বেশ ভালো অবস্থানে আছেন। কেউ কেউ তাদের নিজেদের খামারকে প্রসারিত করেছেন।

মৎস্য চাষের পাশাপাশি হাবিব গড়ে তুলেছেন পোল্ট্রি খামার, ডেইরী ফার্ম, ছাগল-ভেড়ার খামার, ধান চাষ ও সবজি উৎপাদন খামার। হাবিব তার খামারের নাম দিয়েছেন হাবিব মৎস্য খামার। তার খামারে প্রতিদিন প্রায় ২’শ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে থাকেন। মৎস্য চাষে বিশেষ অবদান রাখায় ২০১০ সালের ২১শে জুলাই জাতীয় মৎস্য পদক পেয়েছেন সফল এই মৎস্য চাষী হাবিবুর রহমান হাবিব। ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০১০ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈশ্বরদীর মৎস্য চাষী হাবিবুর রহমান হাবিব এর হাতে সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেন। সে সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্য ও দুর্যোগ মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস।

এখানেই শেষ নয় মৎস্য চাষে সাফল্যের জন্য তিনি স্থানীয়, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পুরস্কার ও সংবর্ধনা পেয়েছেন। সাফল্যের বিষয়ে মৎস্য চাষী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, দেশে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং আমিষের চাহিদা কিছুটা হলেও পুরণ করার জন্য এ পেশায় এসেছি। দেশের এবং জনসাধারনের কথা চিমত্মা করে এদেশের মানুষের পুষ্টির যোগান দিতেই বেকার যুবকদের মৎস্য চাষে উৎসাহিত করে তুলেছি। একটু হলেও তো দেশের উপকারে আসতে পেরেছি। নিজের পাশাপাশি দেশকেও নিয়ে ভাবতে হবে। তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে, দেশের উন্নয়ন ঘটবে। সরকারি ও বে-সরকারি সংস্থার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, তারা যদি আমাকে আর্থিক ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেন তাহলে আমার খামারকে আরও প্রসারিত করে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, সততা, নিষ্ঠা, ধৈর্য এবং শ্রম মানুষকে স্বর্ণ শিখরে পৌঁছে দেয় তার জলমত্ম প্রমাণ আমি নিজেই। কারণ ধৈর্য ধরে সততার সাথে শ্রম বিনিময় করেছি বলেই আজ আমি এই অবস্থানে আসতে পেরেছি। মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছি। আমি বিশ্বাস করি এদেশের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা সততার সাথে শ্রম দিয়ে মাছ চাষ করলে একেকজন আমি হাবিবের চাইতেও ভালো অবস্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। তাই চাকরি নামের সোনার হরিণের পিছু না নিয়ে একটু প্রশিক্ষণ নিয়ে মাছ চাষে মনোনিবেশ করলে যেমনি এদেশ থেকে বেকারত্ব কমবে, সেই সাথে দেশের মাছের চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ হবে বলে আমি আশাকরি। মানুষ যদি সঠিক কর্মের মধ্যে থাকে তাহলে এর সঠিক মূল্যায়ন একদিন হবেই। প্রথম দিকে অনেক কষ্ট করেছি, আজ আল­াহ সেই কষ্টের প্রতিদান দিয়ে মুখে হাঁসি ফুটিয়েছে। এই হাঁসি ফোটানোর জন্য আমার সহধর্মীনি সেলিনা হাবিবের অনেক অবদান রয়েছে। তিনি আমাকে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করেছেন, উৎসাহ অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। অনেক সময় ধৈয্য হারিয়ে গেলেও তিনি সাহস দিয়েছেন। আমার ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে রাত-বিরাত দূর-দূরামেত্মর পাইকার পত্রদের প্রায় সময় খাবার দিতে হয়। তিনি সংসারের কাজের পাশাপাশি ওই সকল পাইকারদের খানাও রান্না করে থাকেন। সব মিলিয়ে আমার স্ত্রী আমাকে বন্ধুর মতো সহযোগিতা করেন। এক কথায় বলা যায় তার সহযোগীয় আমার এতোদূর আসা।

ঈশ্বরদী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, মূলাডুলির হাবিব মৎস্য খামারটি পরিপাটি ভাবে সাজানো। এই খামার থেকে এলাকার বেকার যুবকেরা প্রশিক্ষণ নিয়ে মাছ চাষ করে ভালো একটা অবস্থানে আছে। মৎস্য হাবিব বেকার যুবকদের মাছ চাষে আগ্রহী করে তুলেছে এটা একটা ভাল দিক। তিনি মাছ চাষ করে একাই কোটিপতি হয়ে থেমে থাকেননি। বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে নিজের অর্থ খরচ করছেন। হাবিব মৎস্য খামারের মাছ চাষের কারণে কিছুটা হলেরও দেশের মাছের ঘাটতি পূরণে সচেষ্ট হবে। হাবিব মৎস্য খামারটি প­ান মাফিক পরিচালনা করলে আরও বেশি ভালো করবেন বলে তিনি এ কথা জানান।
পাতাটি ২৪৬৩ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  সফলকৃষক কুমার দুধ বংশি

»  মিষ্টি কুমড়া চাষ করে ভাগ্যোন্নয়ন

»  কুল চাষ করে স্বাবলম্বী বিপুল

»  সফল খামারি গাজী আব্দুল মালেক

»  মুরগি খামার করে স্বাবলম্বী সোহেল