Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 লাল ঢেঁড়সের জাত উদ্ভাবন

২১ জুলাই ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   কৃষি তথ্য কনিকা  
লাল ঢেঁড়সের জাত উদ্ভাবন

ঢেঁড়সের রং সাধারণত সবুজ হয়। কিন্তু গাজীপুরের ব্র্যাক কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি লাল ঢেঁড়স উদ্ভাবন করেছেন। লাল ঢেঁড়স ছাড়াও ব্র্যাক বিজ্ঞানীরা সাদা মিষ্টি কুমড়া, হলুদ মুগ ডাল, লাল পালং ও প্রিন্স শাকসহ বিভিন্ন জাতের ১৫টি হাইব্রিড সবজি উদ্ভাবন করেছেন। এ সব সবজিতে খাদ্যমানও রয়েছে অন্যসব প্রচলিত জাতের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে কৃষক পর্যায়ে এসব জাত বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

সবজি গবেষক ড. সিতেশ চন্দ্র বিশ্বাস বাংলানিউজকে জানান, খাদ্য তালিকায় সাত রঙের সবজির সমাহার ঘটানোর লক্ষ্যেই ব্র্যাক কাজ করছে। তারই অংশ হিসেবে লাল ঢেঁড়স, লাল পালংশাকসহ বিভিন্ন জাতের সবজি উদ্ভাবন করা হয়েছে। লাল ঢেঁড়স জাপানের আর্টিস্টিক জাতের সাথে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল বারি ঢেঁড়স-১-এর সাথে সংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটি একটি হাইব্রিড জাত। ২০০২ সাল থেকে এ জাত উদ্ভাবনের কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি জাতটি উদ্ভাবনের পর কৃষক পর্যায়ে (পরীক্ষামূলকভাবে) চাষাবাদ করা হচ্ছে। এ জাতের ঢেঁড়সের পাতা সবুজ হলেও পাতার শিরা ও পুরো ফলটি লাল রঙের । তবে ফুলটি হলুদ-লালাভ। এর ফলগুলো বেশ বড় বড়। এটা সারা বছরই চাষযোগ্য। এটা প্রতি হক্টরে ১৩-১৪ টন ফলন দেয়। বীজ বপন থেকে শুরু করে ৪০-৪৫ দিনের মধ্যেই ঢেঁড়স সংগ্রহ করা যায়। এ ঢেঁড়সে প্রচুর পরিমাণ সালফার, বিটা-ক্যারোটিন ও এন্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। যা মানুষের রাতকানাসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে। এ ঢেঁড়স চাষে পেটের খোরাকের পাশাপাশি মনের সৌন্দর্যের খোরাকও মেটাবে। এটি বাগানের শোভাবর্ধনও করবে।

সাদা রঙের মিষ্টি কুমড়া- ব্র্যাক স্বাভাবিক (সবুজ-হলুদাভ-বাদামি মিশ্র) রঙের মিষ্টি কুমড়ার পাশাপাশি সাদা রঙের মিষ্টি কুমড়া উদ্ভাবন করেছে। এ ফলের ত্বকের নিচে হালকা হলুদ রঙের বেশ মিষ্ট, পুরু ও নরম মাংসল অংশ থাকে। খেতে বেশ সুস্বাদু। প্রতিটির ৪-৫ কেজি ওজন হয়। হেক্টরপ্রতি ৩০-৩৫ টন ফলন হয়। এছাড়াও প্রচলিত জাতের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ মিষ্টতাযুক্ত বিউটি নামের ফ্যামিলি সাইজের মিষ্টিকুমড়ার জাত উদ্ভাবন করেছে ব্র্যাক। এর ত্বকের নিচে গাঢ় কমলা রঙের বেশ পুরু ও নরম মাংসল অংশ থাকে।

লাল পালং শাক- ব্র্যাক সবুজ জাতের চেয়ে শতকরা ২৫ ভাগ বেশি বিটা-ক্যারোটিন ও শতকরা ৫০ ভাগ আয়রনযুক্ত লাল পালং শাক উদ্ভাবন করেছে। পরীক্ষামূলক প্লটের চাষ হচ্ছে। সারা বছরই চাষযোগ্য এ ধরনের জাতটি অফ সিজনে সবজির চাহিদা মেটাবে। একই গাছ থেকে ৫-৬বার শাক সংগ্রহ (হারভেস্ট) করা যায়। এতে বিটা-ক্যারোটিন (ভিটামিন এ যুক্ত হওয়ায়) ও আয়রন থাকায় এ শাক খেয়েই রাতকানা রোগ ও রক্তশূন্যতা রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

হলুদ মুগ- সোনা মুগের গন্ধ, স্বাদ ও রংযুক্ত হলুদ মুগও ব্র্যাক উদ্ভাবন করেছে। সোনা মুগ ডাল ফলন কম দেয়ায় ও সহজেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ায় ওই জাতটি এখন কৃষকরা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তবে হলুদ মুগ রোগপ্রতিক্ষম ও ফলন সোনা মুগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় কৃষকদের এর চাষাবাদে আগ্রহ বেড়েছে। এতেও প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন রয়েছে।

এছাড়াও সরাবছরের চাষযোগ্য সিম, প্রিন্স শাক, সরিষা (মাস্টার ক্যাবেজ), লাউসহ বিভিন্ন সবজি উদ্ভাবন করেছে ব্র্যাকের বিজ্ঞানীরা। গবেষক ড. সিতেশ চন্দ্র বিশ্বাস আরো বলেন, ২০০০ সাল থেকে ব্র্যাক সবজি গবেষণার কাজ শুরু করে। এযাবত ১৫টি হাইব্রিড জাতের সবজি উদ্ভাবন করা হয়েছে। কিছু কিছু সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে অধিক অর্থ ব্যয়ে হাইব্রিড জাত আমদানি করে দেশে সম্প্রসারণ করছে। তাই আমরা দেশেই হাইব্রিড জাত উদ্ভাবন করছি। এতে বীজ আমদানি খাতে অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।
পাতাটি ২৮৪০ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  লাল ঢেঁড়সের জাত উদ্ভাবন

»  বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় পামওয়েল

»  দুধ উত্পাদন বৃদ্ধির তিনটি কৌশল

»  স্ত্রী ও পুরুষ চিংড়ি চেনার উপায়

»  পেপের নানা গুণ