Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 পাহাড়ে পাহাড়ে রসালো কমলা

২৬ জুন ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   সংবাদপত্রে কৃষির খবর  
পাহাড়ে পাহাড়ে রসালো কমলা

ফলের দোকানগুলোর দিকে তাকালেই চোখে পড়বে সবুজ-হলুদ রসালো কমলা। আমদানি করা কমলার মত আকর্ষনীয় রঙ না হলেও স্বাদে-গন্ধে তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। সরবরাহও প্রচুর। এটি আমাদের দেশি কমলা। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রচুর কমলার চাষ হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন পার্বত্য উপজেলায় বিক্ষিপ্তভাবে এর চাষ হয়ে থাকে।

আমদানিনির্ভর এ ফলটি বেশ কয়েক বছর ধরে পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। চাষিদের ব্যাপকভাবে উত্সাহিত করলে আমদানিনির্ভর না হয়ে এ অঞ্চলগুলো থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কমলা বিক্রি সম্ভব। বিশেষ করে কলম পদ্ধতির চারাগাছে এক বছরের মাথায় ফল ধরে বলে এ চারা ক্রয়ের জন্য চাষিদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। মাটি ও পরিবেশের অনুকূলতায় এসব এলাকায় কমলার উত্পাদন ভাল হলেও উত্পাদিত কমলার আহরণ সংগ্রহ, যথাযথ পরিচর্যা ও প্রযুক্তির অভাবে কৃষকেরা উত্পাদিত ফসলে তেমন লাভবান হন না। অনেক ক্ষেত্রে বেশি লাভের প্রত্যাশায় অপরিপক্ব এবং কাঁচা কমলা ছিঁড়ে বাজারজাত করলে আসল স্বাদ থেকে বঞ্চিত হন ক্রেতারা। কৃষি সূত্রে জানা যায়, মাটিতে অম্লতার মাত্রা সাড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৫ পর্যন্ত থাকলে সেই জমি কমলা চাষের উপযোগী। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত আড়াই থেকে ৩ হাজার মিলিমিটারের মধ্যে থাকায় পাহাড়ের জলবায়ু কমলা চাষের উপযোগী। কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন কমলার চাষ হলেও রোগবালাই আর প্রয়োজনীয় পরিচর্যার অভাবে সত্তরের দশক থেকে কমলার উত্পাদন হ্রাস পায়। ফলে এই জনপ্রিয় পুষ্টিকর ফলের অভ্যন্তরীন চাহিদা মেটাতে হয় আমদানির মাধ্যমে। এতে প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রাইখালী উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা উন্নতজাত উদ্ভাবন, রোগবালাই ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনাসহ কমলার আধুনিক চাষ পদ্ধতির উপর গবেষণা করে সাফল্য পান।

গবেষণার এই সাফল্য থেকে পাহাড়ে কমলার আবাদ ছড়িয়ে দিয়ে এলাকার কৃষিতে নতুন বিপ্লব চিন্তা করছেন গবেষণা কেন্দ্রের সুযোগ্য বিজ্ঞানীরা। রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফল ও ফসলের আবাদের ওপর গবেষণার পাশাপাশি মাটি ও পরিবেশের সমন্বয়ে ব্যাপক গবেষণায় কমলার আবাদে অর্জিত ব্যাপক সাফল্য এলাকার কৃষিতে বিপ্লবের মাধ্যমে কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন সহায়ক হবে বলে আশা করছেন গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুনর রশীদ জানান, প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন প্রজাতির কমলা বীজ ও চারা সংগ্রহ করে কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক চাষাবাদে উন্নত ভেরাইটির উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছে। উদ্ভাবিত কমলার চার বছরের একটি চারায় ৩-৪শ’ করে কমলা ধরেছে। বড় হলে প্রতি গাছে ১ হাজার থেকে দেড় হাজারেরও বেশি কমলা ধরবে। কলম রোপণে কম সময়ে বেশি কমলার উত্পাদন হবে।

কমলা বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ফল। খেতে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। ফলটিতে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা মানুষের সুস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধে অপরিহার্য। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশি এই ফলটি যাতে বিস্তারলাভ করে সেদিকে সরকারি-বেসরকারিভাবে সব প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
পাতাটি ১৯০৭ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  চাই কৃষিবান্ধব তথ্যপ্রযুক্তি

»  উত্তরাঞ্চলে ৫০ হাজার বিঘায় সয়াবিন চাষের পরিকল্পনা

»  আলু চাষে সাফল্য পেতে চান চৌগাছার কৃষকরা

»  তালায় লবণসহিঞ্চু টমেটো চাষে ব্যাপক সাফল্য

»  ফসলি জমিতে সারের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে