Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 দেশের মাটিতে বিদেশি সবজি চাষ

১৭ নভেম্বর ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   কৃষি সংবাদ  
দেশের মাটিতে বিদেশি সবজি চাষ

পৃথিবীব্যাপীই এখন মানুষের খাদ্যতালিকায় প্রাধান্য পাচ্ছে সবজি। সময়ের প্রয়োজনে সব দেশেই কমবেশি সবজি উত্পাদিত হচ্ছে। কোনো কোনো দেশে নির্ভরতা রয়েছে আমদানির। আবার বাংলাদেশ, ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সারাবিশ্বের বাজারেই গড়ে তুলছে তাদের রফতানি বাণিজ্য। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই ইউরোপের একসময়ের বরফ আচ্ছাদিত এলাকাগুলোই এখন পরিণত হচ্ছে উষ্ণ অঞ্চলে। সেখানে উত্পাদিত হচ্ছে বিভিন্ন রকমের সবজি। পাশাপাশি এখন বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশি বিভিন্ন সবজি। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে শুরু করে ইউরোপ ও আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা পতিত জমিকে করে তুলছেন উর্বর ও আবাদি। সেখানে সাফল্যের সঙ্গে করছেন বিভিন্ন সবজির আবাদ। ওমানের নূর মোহাম্মদ কিংবা কাতারের মোহাম্মদ ফরিদের মত বিদেশের মাটিতে সফল কৃষি উদ্যোক্তা তো এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপীই।

বিশ্বায়নের সুবাদে পৃথিবীর একদেশের সবজি আরেক দেশের খাদ্য তালিকায় স্থান পাচ্ছে অনেক সহজেই। বাংলাদেশের সব ধরনের সবজিই এখন আবাদ হচ্ছে বিশ্বের দেশে দেশে। এতে এদেশের রফতানির প্রসার কিছুটা কমেছে বটে, কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের খাদ্যাভাসে এক ধরনের মিল আসছে। একইভাবে বিভিন্ন খাদ্যশস্য, সবজি বা ফল আবাদের ক্ষেত্রেও এসেছে বিশ্বায়নের প্রভাব। বাংলাদেশের সৌখিন কৃষকরা থাইল্যান্ডের প্রসিদ্ধ থাইকুল ও থাই পেয়ারা, ইউরোপ ও আমেরিকার প্রসিদ্ধ স্ট্রবেরি, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও চীনের প্রসিদ্ধ ফল ড্রাগন ফ্রুটস, রাম্বুটান ইত্যাদি বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে আবাদ শুরু করেছেন। এবার প্রত্যন্ত গ্রামের একজন কৃষক তার আবাদি ক্ষেতে পশ্চিমা দেশের বিভিন্ন সবজি আবাদ করে রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। আর এসব সবজি আবাদ করে বাণিজ্যিকভাবেও দারুণ সাফল্যের নজির গড়েছেন তিনি।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বজরুক শুকরা গ্রামের আনসার আলীর কথা বলছি। এক কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে, জন্মের পর থেকে চিনেছেন কৃষিকাজ। প্রথম প্রথম দেশি সবজি চাষাবাদে নানাভাবে ক্ষতির সন্মুখীন হন। তারপর অন্যের কাছ থেকে তালিম নিয়ে দেখেন সফলতার মুখ। এরপর গ্রামের অন্যান্য কৃষকদের তিনি নিজের হাতে সবকিছু শিখিয়েছেন। দেশি সবজি চাষের চেয়ে বিদেশি সবজির চাহিদা বেশি হওয়ার কারণে তিনি শুরু করেন বিদেশি সবজির আবাদ। প্রায় ২০ থেকে ২২টি বিদেশি সবজির আবাদ করছেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-এসপ্যারা গাছ, ব্রকলি, চেরি টমেটো, নানা রকমের লেটুস, চার রকমের মিষ্টি মরিচ, থাই আদা ও পাতা ইত্যাদি। এসব সবজি আনসার আলীর হাত ধরেই চাষ হচ্ছে আমাদের দেশে।

নতুন ফসল ও বাণিজ্য ব্যবস্থা আনসার আলীকে করেছে দারুণ গতিশীল। সারাক্ষণ আবাদি ক্ষেতে বিদেশি নানা সবজি সাথেই কাটিয়ে দেন সময়। ক্ষেত থেকে সবজি তুলে সেগুলো সঠিক উপায়ে বাজারে পাঠানোর ক্ষেত্রেও তিনি অবলম্বন করেন আধুনিক কলা-কৌশল। দিনের পর দিন এসব কাজ করতে করতে দারুণ অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন তিনি। কোনোকিছুতেই যেন তার লোকসান নেই। দিনের পর দিন এসব সবজির চাহিদা বাড়ছে আমাদের দেশের বাজারে। তার সাথে প্রতিবছরই বাড়ছে তার আয়।

একসময় গ্রামের আর পাঁচজন হতদরিদ্র কৃষকের মতই জীবন ছিল আনসার আলীর। দিন চলত কোনমতে। খেয়ে না খেয়ে। সেই দিনগুলোর কথা খুব মনে করে চোখ ভরে উঠে পানিতে। আজ আর তার সেই আগের অবস্থা নেই। অনেক ভাল আছেন তিনি। এখন তার সবজি ক্ষেতে কাজ করছে গ্রামের অন্যান্য মানুষ। সাথে রয়েছেন কাজে সহযোগিতার জন্য মেয়ের জামাতা তফিজার রহমান। বিদেশি সবজির স্পর্শে এসে পাল্টে গেছে তফিজারের জীবনও। এখন তারও আর্থিক অবস্থা ভাল।

কঠোর পরিশ্রম আর নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে চলেছেন আনসার আলী। সঙ্গে উন্নয়নের সূত্রধর হিসেবে কাজ করেছে বেসরকারি সংগঠন টিএমএসএস এর এ্যাগ্রোবিজনেস। এ সংগঠনের লোকেরা বিভিন্ন সময় আনসার আলীকে ঋণ দিয়ে তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

উত্পাদনে, সাফল্যে এখন দারুণ স্বপ্নবান আনসার আলী। রাজধানীর বড় বড় ওয়ান স্টপ মলে এখন তার ক্ষেত থেকে উত্পাদিত বিদেশি সবজি থরে থরে সাজানো থাকছে। অভিজাত রেস্টুরেন্টগুলোতে দেশি-বিদেশি ভোজনরসিকদের দামি রেসিপিতে ব্যবহার হচ্ছে এই আনসার আলীর ক্ষেতের সবজি। এটি অনেক বড় অর্জন একজন কৃষকের জন্য। আর এতসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ বছর অর্জন করেছেন বছরের শ্রেষ্ঠ কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার ২০১০। গত ১৭ সেপ্টম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাত থেকে তিনি গ্রহণ করেছেন সম্মানসূচক ওই পুরস্কার।

কৃষকই পথ দেখায়। তার পথ ধরেই এগিয়ে যায় অনেকেই। আমরা যখন খাদ্য নিরাপত্তার কথা ভাবি, তখন আমাদের সামনে ভরসা হয়ে দাঁড়ায় আনসার আলীর মতো উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন কৃষকরা। যারা দ্রুতই নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবেই বুঝিয়ে দেন, এদেশের সোনাফলা মাটিতে কোনোকিছু ফলানোই অসম্ভব নয়।
পাতাটি ৩১৯৯ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  আগামী বাজেটে কৃষিখাতে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছে

»  পেঁপের নতুন জাত উদ্ভাবন

»  কৃষিতে ৫৫ দফা সুপারিশ

»  ফরিদপুরের কালো সোনা

»  গ্রীষ্মকালীন তুলার নতুন জাত উদ্ভাবন