Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 তামাকের বদলে তুলা

২০ নভেম্বর ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   সংবাদপত্রে কৃষির খবর  
তামাকের বদলে তুলা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তুলা চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষক। ক্ষতিকর তামাক চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষক চাষ করেছেন তুলা। মাঠের পর মাঠ বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে হাইব্রিড জাতের তুলাক্ষেত দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দেশের মোট উৎপাদনের এক-পঞ্চমাংশ তুলা কুষ্টিয়া থেকে সংগ্রহ করা যাবে বলে তারা জানিয়েছেন।
তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া ইউনিটে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। চাষ করা হয়েছে ৭ হাজার ৫৩ হেক্টর জমিতে। চাষ করা জমি থেকে ৩০ হাজার বেল তুলা উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের মোট উৎপাদিত চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ও আদাবাড়িয়া ও রামকৃষ্ণপুর বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠে উন্নত জাতের তুলা চাষ করা হয়েছে। বিলগাথুয়া ও ধর্মদহ মাঠে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর হাইব্রিডের পাশপাশি দেশে উদ্ভাবিত উন্নত জাতের তুলা চাষ করেছেন কৃষকরা। তামাকের বিকল্প ফসল হিসেবে তুলা চাষকে বেছে নিয়েছেন তারা। এ অঞ্চলের মাটি তুলা চাষের উপযোগী হওয়ায় চাষিরা তুলা চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, পূর্বে এসব জমিতে তামাক চাষ করা হতো। তুলা চাষে সাফল্য পাওয়ায় এ এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠে উন্নত জাতের তুলার চাষ করা হচ্ছে। তিনি জানান, এক বিঘা জমিতে তুলা চাষ করতে ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘাপ্রতি ১১ থেকে ১২ মণ তুলা উৎপাদন করা যায়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
বিলগাথুয়া গ্রামের তুলাচাষি (অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা) গোলাম মোস্তফা জানান, গত বছর দাম ভালো পাওয়ায় চলতি মৌসুমে আরও বেশি জমিতে তুলার চাষ করা হয়েছে। কিন্তু বীজ, কীটনাশক, সার ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর খরচ বেড়ে গেছে। তাই দাম না বাড়ানো হলে লোকসান গুনতে হতে পারে চাষিদের। এ ছাড়া তুলা ঘরে তোলার সময় হলেও সরকার এখন পর্যন্ত দাম নির্ধারণ না করে দেওয়ায় শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।
সম্প্রতি দৌলতপুর উপজেলার তুলাক্ষেত পরিদর্শন করেছেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক দেওয়ান মোঃ ইন্তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, কুষ্টিয়ায় তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে তুলা চাষ করে কৃষকরা তুলনামূলক বেশি লাভবান হচ্ছেন। বিগত দিনে দেশি বীজ দিয়ে তুলা চাষ করা হলেও বর্তমানে উন্নত জাতের হাইব্রিড ও সিবি-১২ জাতের তুলার চাষ করা হচ্ছে। এ ছাড়া তুলা গাছের সবুজ পাতা জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। তিনি বলেন, কৃষকরা এ ধরনের উন্নত জাতের তুলার চাষ অব্যাহত রাখলে তুলা ও সুতার চাহিদা দেশ থেকেই পূরণ করা সম্ভব।
সূত্র : দৈনিক সমকাল
পাতাটি ২২৭৯ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  চাই কৃষিবান্ধব তথ্যপ্রযুক্তি

»  উত্তরাঞ্চলে ৫০ হাজার বিঘায় সয়াবিন চাষের পরিকল্পনা

»  আলু চাষে সাফল্য পেতে চান চৌগাছার কৃষকরা

»  তালায় লবণসহিঞ্চু টমেটো চাষে ব্যাপক সাফল্য

»  ফসলি জমিতে সারের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে