Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 কয়েকস্থানে বিদ্যুত্ সংকট, ইরি -বোরো চাষ ব্যাহত

২৬ জুন ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   সংবাদপত্রে কৃষির খবর  
কয়েকস্থানে বিদ্যুত্ সংকট, ইরি -বোরো চাষ ব্যাহত

রংপুর বিভাগে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। আর এই লোডশেডিংয়ের কারণে যান্ত্রিক ত্রুটিসহ পুড়ে গেছে শতাধিক বৈদ্যুতিক সেচপাম্প। চাষাবাদ নিয়ে দিশেহারা কৃষক।

রংপুর বিভাগের ৮ জেলার প্রতিটি উপজেলায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টায় লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। এর সাথে শহরগুলোতেও দিনে ৪ থেকে ৫ বার বিদ্যুত্ যাওয়া-আসা করছে। একবার বিদ্যুত্ চলে গেলে ২ ঘন্টা তার কোন খোঁজ থাকে না। পিডিবি ও আরইবি সূত্রে জানা যায়, রংপুর জোনের ৮ জেলায় বর্তমান বোরো সেচ মৌসুমে দিনে ও রাতে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে এ অঞ্চলে বিদ্যুতের সরবরাহ রয়েছে রংপুর অঞ্চলে ২’শ থেকে আড়াই’শ মেগাওয়াট।

বিদ্যুতের এই লোডশেডিংয়ে এরই মধ্যে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় শতাধিক সেচপাম্প পুড়ে গেছে। এর মধ্যে রংপুর সদরে ১৫টি, কুড়িগ্রামে ১০টি, লালমনিরহাটে ২০টি, গাইবান্ধায় ১৮টি, নীলফামারীতে ২৫টিসহ শতাধিক সেচপাম্প।

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

জামালপুর-ধনবাড়ি ৩৩ কেভি বাইপাস লাইন নির্মাণ অসমাপ্ত থাকায় টাঙ্গাইলের পাঁচ উপজেলায় বিদ্যুত্ সঙ্কটে বোরো ফসলে সেচ সমস্যা দেখা দিয়েছে। জানা যায়, ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি. মধুপুর, গোপালপুর, ভূয়াপুর ও ঘাটাইল উপজেলায় বিদ্যুত্ সরবরাহ করে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুত্ বিতরণের জন্য মধুপুর উপজেলার টেংরী এবং ধনবাড়ি উপজেলার হাজরাবাড়িতে পল্লী বিদ্যুতের দুইটি সাবস্টেশন রয়েছে। পিডিবির জামালপুর ন্যাশনাল গ্রিডের বিদ্যুত্ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও মধুপুর বনাঞ্চল ঘুরে দেড়শ কিলোমিটার অতিক্রম করে এ দুইটি সাবস্টেশনে পৌঁছে। জরাজীর্ণ লাইনে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আসা ৩৩ হাজার ভোল্টেজের এ বিদ্যুত্ গ্রাহক প্রান্তে ১৬/১৭ হাজার ভোল্টেজে পরিণত হয়। হাজরাবাড়ি সাবস্টেশনের আওতাধীন সেচ গ্রাহকদের অভিযোগ, এত কম ভোল্টেজে সেচ মোটর ঘুরে না। ফিডার ট্রিপিং ও ভোল্টেজ আপডাউনে সেচ মোটর পুড়ে যায়। ধনবাড়ি উপজেলার কেরামজানি গ্রামের সেচ গ্রাহক ছামাদ আলীর অভিযোগ, দেড় মাসে তার মোটর ৬ বার পুড়েছে। লোভোল্টেজের দরুন বৈদ্যুতিক মোটরে সেচ দিতে না পারায় অনেকেই ডিজেল চালিত শ্যালো ইঞ্জিন বসিয়েছে। এতে বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ এবং ডিজেল ক্রয় উভয় ধরনের ধাক্কা সামাল দিতে হচ্ছে। গ্রাহকের এ সমস্যা নিরসনে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে পিডিবির জামালপুর ন্যাশনাল গ্রিড সাবস্টেশন থেকে ধনবাড়ি উপজেলার হাজরাবাড়ি সাবস্টেশন পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩৩ কেভি বাইপাস লাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। দেশ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির ঠিকাদার এবং টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বাহারুল তালুকদার মিন্টু ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে এ কাজ পান। সেচ মৌসুমের কথা বিবেচনায় রেখে ঐ সালের (২০০৯) ডিসেম্বরে লাইন নির্মাণ শেষ করার কথা। কিন্তু গত আড়াই বছরেও ঐ ঠিকাদার লাইন নির্মাণ কাজ শেষ করেননি। এ ব্যাপারে ঠিকাদার বাহারুল তালুকদার মিন্টু স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, লাইন নির্মাণে কোন গাফিলতি হয়নি। শীঘ্রই এ নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা

চলতি বোরো-ইরি মৌসুমে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২০ থেকে ২২ ঘন্টা লোডশেডিং চলে। ফলে উপজেলার বোরো-ইরি চাষ হুমকির মধ্যে পড়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে সাড়ে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো-ইরি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার হেক্টর জমি বিদ্যুত্চালিত সেচ পাম্পের আওতায় রয়েছে। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে বিদ্যুতের এরকম সমস্যা হলে বোরো চাষ হুমকির মধ্যে পড়বে।

এ ঘটনায় চাষিদের সাথে সেচ পাম্প মালিকদের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়া-বিবাদ হচ্ছে। সোমবার উপজেলার চাপারহাট গ্রামের আবু বক্কর নামে এক সেচ পাম্প মালিক কৃষকদের হাতে প্রহূত হয়েছেন। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।

সুন্দ্রাহবি গ্রামের সেচ পাম্প মালিক আফজার হোসেন জানান, আমি প্রায় ৫ বছর ধরে সেচ পাম্প চালাচ্ছি কিন্তু এবারের মত কোনবারে লোডশেডিং দেখিনি।

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে দুর্ভোগ বেড়েছে এলাকাবাসীর। বিপাকে পড়েছেন স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, এইচএসসি পরীক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সেচপাম্প মালিক ও গ্রাহকরা। দিনে-রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বেড়ে গেছে জনদুর্ভোগ। পরীক্ষার্থীদের পড়াশুনায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। অপরদিকে, বোরো ক্ষেতে পানি সেচের শুরুতেই বিদ্যুত্ সংকট দেখা দেয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। নাটোর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ বাগমারা জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌর এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৪/১৫ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩/৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুত্ না থাকায় বিদ্যুত্ নির্ভর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অনেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন। সেচপাম্প চালিত কয়েকজন কৃষক জানান, ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২/৩ ঘন্টা বিদ্যুত্ সরবরাহ করে বিদ্যুত্ বিভাগ। অপরদিকে আলোগনগর বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকায় ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। হঠাত্ বিদ্যুত্ আসা-যাওয়ায় গভীর নলকূপের ব্যাপক ক্ষতি হয় বলেও তারা জানান। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশুনায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে।

যাত্রাগাছী মাদ্রাসার শিক্ষক মজনুর রহমান জানান, সন্ধ্যার পর বিদ্যুত্ না থাকায় ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনার ক্ষতি হচ্ছে। এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুত্ বাগমারার ভবানীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী একরামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাগমারায় ১৪/১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পাওয়া যায় মাত্র ৩/৫ মেগাওয়াট। প্রয়োজনের তুলনায় কম বিদ্যুত্ পাওয়ার জন্যই লোডশেডিং বেড়েছে বলে তিনি জানান।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
পাতাটি ২০৫৩ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  চাই কৃষিবান্ধব তথ্যপ্রযুক্তি

»  উত্তরাঞ্চলে ৫০ হাজার বিঘায় সয়াবিন চাষের পরিকল্পনা

»  আলু চাষে সাফল্য পেতে চান চৌগাছার কৃষকরা

»  তালায় লবণসহিঞ্চু টমেটো চাষে ব্যাপক সাফল্য

»  ফসলি জমিতে সারের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে