Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 শসা ও তেঁতুল পাতার বালাইনাশক

২১ জুলাই ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   রোগবালাই ও প্রতিকার  
শসা ও তেঁতুল পাতার বালাইনাশক

শসা ও তেঁতুল পাতা থেকে বালাইনাশক। ব্যতিক্রমী এ বালাইনাশক উদ্ভাবন করেছেন নরসিংদী কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মখলেছুর রহমান। ইতোমধ্যে নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলার শাক-সবজির জমিতে, ফলের বাগানে ও পানের বরজে ব্যবহূত হচ্ছে এ বালাইনাশক।

ফসলে বিশেষ করে সবজিতে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে কীটনাশক ব্যবহূত হচ্ছে। এতে মানুষের স্বাস্থ্যগত ও পরিবেশগত ক্ষতি হচ্ছে। মখলেছুর রহমান প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে এমন একটি বালাইনাশক পদ্ধতি আবিষ্কারের বিষয়ে ভাবছেন, যাতে কৃষকদের জমিতে কোনো বিষ দিতে না হয়। মখলেছুর রহমান জানান, এসব বিবেচনা করে বিষয়টি নিয়ে জেলার শিবপুরের কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সত্যরঞ্জন সাহার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এমন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করার, যার দ্বারা অপকারী পোকা ধ্বংস হবে আর উপকারী পোকার কোনো ক্ষতি হবে না। এরই অংশ হিসেবে শসা ও তেঁতুল পাতাসহ বিভিন্ন পাতার রস থেকে তৈরি বালাইনাশক পরীক্ষামূলকভাবে সবজির জমিতে ব্যবহার করা হয়। প্রয়োগ শেষে সব জমির ফলাফলে দেখা গেছে, শসা ও তেঁতুলে ক্ষেত্রে ভাল ফল পাওয়া যায়। এ বালাইনাশকে অপকারী পোকা মারা গেলেও উপকারী পোকার কোনো ক্ষতি হয় না।

মুখ খোলা পাত্রে এক লিটার পানিতে ১২ গ্রাম শুকনো শসার পাতা সাতদিন ভিজিয়ে রাখতে হবে। সাতদিন পর এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট ঢাকনা দিয়ে রাখতে হবে। এরপর সাতদিন ছিদ্রবিহীন রঙিন দুই-তিন পর্দা পলিথিন দিয়ে পাতিলের মুখ এমনভাবে বন্ধ করে রাখতে হবে যেন বায়ুবদ্ধ অবস্থায় থাকে। এরপর ছেঁকে সরাসরি বালাই দমন

হিসেবে ব্যবহার করা যাবে অথবা বোতলজাত করে ব্যবহার করা যাবে। এক লিটারের বেশি পানি হলে পরিমাণমত শসার পাতা দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ভিজিয়ে সিদ্ধ করতে হবে। শসার পাতার বালাইনাশক তৈরির মতই তেঁতুল পাতার বালাইনাশক তৈরি করতে হয়।

প্রতি লিটার পানিতে আড়াই মিলিলিটার বালাইনাশক ভালভাবে পানির সঙ্গে মিশিয়ে পুরো গাছে স্প্রে করতে হবে। পোকার আক্রমণ থাক বা না থাক পাঁচদিন পর পর অবশ্যই স্প্রে করতে হবে। অবস্থাভেদে প্রতিদিন অথবা একদিন পর পরও স্প্রে করা যায়। তেঁতুলের পাতার ক্ষেত্রে প্রতি লিটার পানিতে চার থেকে পাঁচ মিলিলিটার বালাইনাশক তিনদিন পর পর স্প্রে করতে হবে।

বেলাব উপজেলার রহিমেরকান্দী গ্রামের কৃষক সাহাব উদ্দিন। সারা বছরই বিভিন্ন সবজির চাষ করেন। একদিন মখলেছুর রহমানের পরামর্শে তার উদ্ভাবিত বালাইনাশক ব্যবহার করে সুফল পান।

নরসিংদীর শিবপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সত্যরঞ্জন সাহা বলেন, আমরা উপ-পরিচালক মখলেছুর রহমানের কথামত বেগুনের চারটি পৃথক জমিতে সাধারণ, তেঁতুল পাতার রস, শসা পাতার রস ও কীটনাশক ব্যবহার করি। দেখা গেছে, সাধারণ জমিতে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ সবচেয়ে বেশি, কীটনাশকের জমিতে কম এবং তেঁতুল পাতা ও শসা পাতার রস ব্যবহার করা জমিতে পোকার আক্রমণ কম ও ভাল ফলন পাওয়া যায়। এ পরীক্ষা থেকে সবজিতে তেঁতুল ও শসা পাতার রস কার্যকরী।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা ইনস্টিটিউট ঢাকার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জহুরুল হক বলেন, শসার পাতার রসে সেফনিন ও তেঁতুলের পাতার রসে টেনিন যৌগ রয়েছে। এ দু’টি যৌগই বালাইনাশক হিসেবে ব্যবহূত হয়। গবেষণাগারে তেঁতুল ও শসা পাতার রসের পোকা দমনের কার্যকারিতার ওপর লেটাল ড্রোস ৫০ ভাগ (খউ৫০) পরীক্ষা করে সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেছে।

লেখক: সুমন বর্মণ
পাতাটি ২৬১৫ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  শসা ও তেঁতুল পাতার বালাইনাশক

»  লিচু ফেটে যাওয়ার কারন ও তার প্রতিকার

»  লিচুর রোগ প্রতিকার ও সার ব্যবস্থাপনা

»  আমের ক্ষতিকর পোকামাকড় ও রোগবালাই

»  স্ট্রবেরি গাছে গোড়াপচা রোগ ও করনীয়