Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 বোরোর ভালো ফলনেও কৃষকের দুশ্চিন্তা

২০ নভেম্বর ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   সংবাদপত্রে কৃষির খবর  
বোরোর ভালো ফলনেও কৃষকের দুশ্চিন্তা

বোরোর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানিতে ডুবে গেছে ধান। বৈশাখী তাণ্ডবে নষ্ট হয়েছে অনেক ক্ষেত। ধানের দাম কমে গেছে। উত্পাদন খরচ উঠাতেই হিমশিম খাচ্ছেন চাষীরা। ব্যাংক, এনজিও ও মহাজনের ঋণ পরিশোধ কীভাবে করবেন তা নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে তৃণমূল পর্যায়ের চিত্র বেরিয়ে এসেছে।

আমাদের মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি এসআরএ হান্নান জানান, মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা কোমর বেঁধে নেমে পড়েন বোরো ক্ষেতে। ঘামে আর শ্রমে উর্বর করে তোলেন ক্ষেত। সেইসঙ্গে অতীতের দায়দেনা পরিশোধসহ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালান তারা। কিন্তু অতীতের দেনা পরিশোধ তো দূরের কথা কৃষকের কাঁধে ঋণের বোঝা আরও বেড়ে গেছে। দাম না পাওয়ায় কৃষকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। সূত্রমতে, খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২২ হাজার ৯৭৩ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়। গত বছর আবাদ হয়েছিল ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৪৯৭ হেক্টরে। ক্ষতি পোষাতে এ বছর আবাদ করা হয় ৬ লাখ ৭ হাজার ৪৭০ হেক্টরে। এর মধ্যে খুলনায় ৫০ হাজার ২৫ হেক্টরে, যশোরে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৯২০, ঝিনাইদহে ৮৬ হাজার ৩৩২, সাতক্ষীরায় ৭৩ হাজার ৯৮৫, বাগেরহাটে ৪৭ হাজার ৩৮৫, চুয়াডাঙ্গায় ৪০ হাজার ৫৫০, নড়াইলে ৪৪ হাজার ৩৯০, মেহেরপুরে ২৫ হাজার ৯৫০, কুষ্টিয়ায় ৩৭ হাজার ৪৬০ এবং মাগুরা জেলায় ৪৪ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়। খুলনা বিভাগের এসব জেলার কৃষক ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৮ হেক্টরে হাইব্রিড, ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৩০ হেক্টরে বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাত এবং ৫ হাজার ৪৫৫ হেক্টরে স্থানীয় জাতের বোরো ধানের আবাদ করেন। এসব চাষী ব্রি-২৮, ৩৩, ৪৫, ৫০, ৩৯ ও ২৬; হিরা, সুপার হাইব্রিড, আফতাব, মধুমতি, টিয়া, রত্না, কাজললতা, আলোড়ন, জিএস, কারগিলাসহ বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের আবাদ করেন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠে মাঠে এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। যে কারণে সরকার, কৃষি বিভাগ ও কৃষক আশান্বিত হয়। বিশেষ করে বোরো উত্পাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার কৃষাণ-কৃষাণীর মধ্যে বইতে থাকে আনন্দধারা। কিন্তু মৌসুমের শেষের দিকে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে এবং ধানের অভাবনীয় দরপতনে অমানিশার কালো অন্ধকার হাতছানি দিয়েছে কৃষকের ঘরে ঘরে। গোটা খুলনা বিভাগের ১০ জেলার কৃষক এখন হতাশায় নিমজ্জিত। কারণ এই ক্ষতি কোনোভাবেই পুষিয়ে নেয়ার নয়। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন ধান প্রতি মণ ৪৬০-৫২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শ্রেণীভেদে চিকন ধান বিক্রি হচ্ছে ৫৬০-৬১০ টাকা মণ দরে, যা গত মৌসুমের তুলনায় প্রতি মণে ২৪০-৩২৫ টাকা কম। এ অবস্থায় কৃষককে প্রতি মণ ধানে গচ্চা দিতে হচ্ছে ১৮০-২৭৫ টাকা পর্যন্ত। এতে করে কৃষকের হাতে নগদ অর্থ না থাকায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে চরম মন্দাভাব বিরাজ করছে।

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম জানান, বাজারে দাম কম হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে পারিজা ধান ৪৯০-৫০০ টাকা ও জিরাশাইল ৫৫০-৫৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম কম হওয়ায় অনেক কৃষক ধান বিক্রি না করে বাড়িতে মজুত করে রেখেছেন। উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক হায়দার আলী জানান, প্রতি বিঘায় সেচ, সার, কীটনাশকসহ প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। ধানের দামে খরচ উঠবে না। তিনি আরও বলেন, গত বছর কারেন্ট পোকার আক্রমণ হলেও ধানের দাম প্রতি মণ ৬০০-৭০০ টাকা ছিল। কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর মহাদেবপুর উপজেলায় এবার বোরো মৌসুমে আবাদ হয়েছে হাউব্রিড, পারিজা, বিধান ২৮, জিরাশাইল, খাট ১০ জিরা জাতের ধান। এতে ২৭ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
পাতাটি ২০১১ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  চাই কৃষিবান্ধব তথ্যপ্রযুক্তি

»  উত্তরাঞ্চলে ৫০ হাজার বিঘায় সয়াবিন চাষের পরিকল্পনা

»  আলু চাষে সাফল্য পেতে চান চৌগাছার কৃষকরা

»  তালায় লবণসহিঞ্চু টমেটো চাষে ব্যাপক সাফল্য

»  ফসলি জমিতে সারের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে