Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 বাগান করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে লিচু ব্যবসায়ীরা

২০ নভেম্বর ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   বিভিন্ন ব্যাবসা বানিজ্য  
বাগান করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে লিচু ব্যবসায়ীরা

দিনাজপুরে এবার লিচুর ভাল ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে ঝড় ও বৈরী আবহাওয়া থাকলেও লিচুচাষীরা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ বিষয়ক প্রশিক্ষণ সচেতনতা উদ্বুদ্ধকরণ সভা এবং লিচু গাছে দফায় দফায় ছত্রাক নাশক স্প্রে করায় এবার ফলন ভাল হয়েছে। তবে লিচুর দাম এ বছর অনেক চড়া। ক্রেতার নাগালের বাইরে বলা চলে। তারপরেও লিচুর বাগান করে লিচু-চাষীরা এখন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। আর সে কারণেই নতুন নতুন লিচু বাগান তৈরী হচ্ছে। মানুষ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পর লিচু বাগানের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটছে এ জেলার লিচু-চাষীদের।

যদিও শুরুতে ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ায় কিছু লিচু ঝরে যায়, তারপরেও যা আছে এখন পর্যন্ত তা একেবারেই অপর্যাপ্ত নয়। এছাড়া দিনাজপুরের বিভিন্ন লিচুর বাগান ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা লিচু পেড়ে বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, লিচুর ফলন ভাল হওয়ায় ও দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকরা বেশী বেশী করে এ ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। কৃষকরা এবার সময়মত কৃষি বিভাগের পরামর্শ মতে ফুট পাম্পের সাহায্যে লিচু গাছে ছত্রাক নাশক স্প্রে করে বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও গত বছরের তুলনায় মোটামুটি ফলন পেয়েছে। দিনাজপুরে এবার প্রচলিত বেদানা, বোম্বাই লিচুর পাশাপাশি নতুন আমেজ সৃষ্টি করেছে চায়না থ্রি লিচু। এরপরও বেদানা লিচুর কোন বিকল্প নেই। বাজারে এখন পুরোপুরি লিচুর ঠাসাঠাসি। ব্যবসায়ীদের আড়তগুলোতে এখন শুধুই হরেক প্রকারের লিচু। ভিড় চোখে পড়ার মত। এ বছর মাদ্রাজি প্রতি শ’ ২০০ টাকা, বোম্বাই প্রতি শ’ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বেদানা প্রথম থেকে ৭শ’ থেকে ১২শ’ টাকা এবং চায়না থ্রি ৪শ’ থেকে ৮শ’ টাকা প্রকার ভেদে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে গত বছর মাদ্রাজি লিচুর দর ছিল ১শ’ থেকে ১৫০ টাকা, বোম্বাই লিচুর দাম ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, বেদানা ৪শ’ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে এবং চায়না থ্রি ৪শ’ থেকে ৬শ’ টাকার মধ্যে কেনা-বেচা হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নজরম্নল ইসলাম মন্ডল জানান, দিনাজপুর জেলার ১৩টি থানায় এ বছর ১ হাজার ২শ’ ৭৬ হেক্টর জমিতে লিচু বাগান করা হয়েছে। গত বছর ছিল এর পরিমাণ ৫শ’ ৫২ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রতি হেক্টরে গত বছর ২.৩৭ মেঃ টন। চলতি বছর তা উন্নীত হয়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৫০ মেঃ টনে।

উপজেলা পর্যায়েও একেই অবস্থা। শহরের আবাসিক হোটেলগুলোতে ব্যবসায়ীদের ভিড়ে পরিপূর্ণ। কোন হোটেলেই সিট খালি নেই। আবাসিক হোটেলের ম্যানেজাররা বলেছেন, আগামী মাস পর্যন্ত এই ভিড় অব্যাহত থাকবে। কারণ লিচুর পরেই আমের মৌসুম শুরু হচ্ছে। কাজেই ব্যবসায়ীরা এত তাড়াতাড়ি দিনাজপুর ছাড়ছে না। লিচু পাঠাবার কাজে খাচা তৈরী হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে। শ্রমিকদের আরাম-আয়েশ করার ফুরসৎ নেই। কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতেও সমান ভিড়। তারা আলাদা কাউন্টার খুলেছে। এছাড়া ঢাকাগামী কোচ সার্ভিসগুলো সমান তালে লিচু পৌঁছাবার ব্যবস্থা করছে। তবে বেদানা ও চায়না থ্রি বাজারে আসতে শুরু করেছে। স্বল্পতার কারণে অনেকেই গাছে থাকা অবস্থায়ই লিচুর বুকিং দিচ্ছে। বর্তমানে বেদানা লিচু ৭শ’ থেকে ১২শ’ টাকায় শ-প্রতি বুকিং নেয়া হলেও শেষ পর্যায়ে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি শ’ লিচু বিক্রি হবে। তবুও ভিআইপি লিচু বেদানার চাহিদা আকাশচুম্বি। আম-লিচু আবাদের নির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই কৃষি বিভাগের কাছে। তবে কৃষি বিভাগের তথ্য মতে লাভজনক হওয়ায় বৃহত্তর দিনাজপুরে ৪০.০০০ হেক্টর জমিতে লিচু বাগান হয়েছে। উঁচু কোন জমিই এখন আর পড়ে নেই। তাতে এখন লিচুর বাগান শোভা পাচ্ছে। বৃহত্তর দিনাজপুরের ২৩টি উপজেলায় এখন আম-লিচুর বে-হিসেবী বাগান। যা সত্যিই মানসিকভাবে প্রশান্তির কারণ। গাছ লাগানোর ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যেই পাওয়া যায় ফল। ৬ থেকে ৭ বছরের মধ্যেই প্রতিটি গাছ অর্থকরী হয়ে দাঁড়ায়। এবার ছোট গাছগুলোও বিক্রি হয়েছে ৫ হতে ২০ হাজার টাকায় যা দশ বছর আগেও এই অঞ্চলের মানুষের কাছে কল্পনা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সরেজমিনে বিরলের মত প্রত্যনত্ম একটি উপজেলার একটি লিচু বাগান এবার বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ টাকায়। ১০ বছর আগেও বেদানা ছিল একমাত্র দিনাজপুরে গর্ব করার মত লিচু। কিন্তু এর মাঝে নতুন করে স্থান করে নিয়েছে চায়না থ্রি জাতের লিচু যা বেদানার থেকেও দ্বিগুন বড়, ও রসালো। তবে স্বাদের ক্ষেত্রে বেদানার বিকল্প নেই আর হবেও না। দিনাজপুর শহরে দক্ষিণ মাসিমপুর এলাকার কসবা এলাকা ছিল বেদানা ও গোপালভোগ আমের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু অর্থকরী হওয়ায় এখন সর্বত্রই অসংখ্য বেদানা ও চায়না থ্রি’র বাগান চোখে পড়ছে। ১০ থেকে ১২ ফুট উঁচু কলম চারার লিচু গাছগুলো মৌসুমে লিচুর ভারে হেলে পড়ে। সাধারণত চলতি জ্যৈষ্ঠ মাসই দিনাজপুরে লিচুর মাস হিসেবে পরিচিত। লিচুর শেষেই আমের মৌসুম শুরু।
পাতাটি ২৯৭২ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  কৃষিভিত্তিক শিল্পে ঋণ বিতরণ ২৪ শতাংশ বেড়েছে

»  মসলা চাষে কৃষকের আগ্রহ কমছে

»  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাটের বাজারে চাঙ্গাভাব বর্ধিত দাম পেল না কৃষক

»  ঝালকাঠিতে গুটি ইউরিয়া প্রযুক্তির ওপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

»  পাটজাত পণ্যে নগদ সহায়তায় নতুন শর্ত