Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/sumon09/public_html/include/config.php on line 2
 চাই কৃষিবান্ধব তথ্যপ্রযুক্তি

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮


হোম   »   কৃষি তথ্য   »   সংবাদপত্রে কৃষির খবর  
চাই কৃষিবান্ধব তথ্যপ্রযুক্তি

জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে কৃষি খাতের অবদান বৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে এ খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও কৃষকবান্ধব করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই কৃষকের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যের সন্নিবেশ ঘটিয়ে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনগুলোর ব্যবহার সহজ করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সুসমন্বয় ঘটাতে হবে।

এথিকস অ্যাডভান্সড টেকনোলজি লিমিটেড (ইএটিএল) ও প্রথম আলোর উদ্যোগে গতকাল শনিবার আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব মতামত তুলে ধরা হয়। ‘কৃষি খাতে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনায় সরকারের মন্ত্রী, সচিব, মোবাইল ফোন অপারেটর, শিক্ষক, গবেষক, উন্নয়ন-সহযোগী বা এনজিও, কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত এই গোলটেবিল আলোচনার সঞ্চালক ছিলেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম।

অনুষ্ঠানে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, কৃষি খাতসহ দেশের যেকোনো উন্নয়নের জন্য দরকার রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা। কৃষি খাতে প্রযুক্তির ব্যবহারকে সহজলভ্য করতে হলে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রযুক্তিপণ্যের প্রাপ্তি নিশ্চিত করা দরকার। এ ক্ষেত্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি মাত্রায় এগিয়ে আসতে পারে। এ জন্য প্রয়োজনে সরকার বিশেষ সুবিধা দেবে।

আলোচনার শুরুতে কৃষি খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইএটিএলের প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ইএটিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষককে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও বিষয়বস্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক আগেই এ কাজটি সম্পন্ন করা উচিত ছিল। এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দিক থেকে কোনো বাধা নেই।

তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, ভবিষ্যৎ সবকিছুই স্মার্টফোন-কেন্দ্রিক। তাই প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের পাশাপাশি কৃষক যাতে তথ্যপ্রযুক্তির সুবাদে বিনোদনের সুবিধাও ভোগ করতে পারেন, সে জন্য গ্রামাঞ্চলে হটস্পট বা ওয়াইফাই জোন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কৃষির অবদান বাড়বে না।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। কৃষি খাতের উন্নয়নের স্বার্থে গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেটের গতি ও স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ানো দরকার।

রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহমেদ আল কবীর বলেন, কৃষি খাতের উন্নয়নে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হলে এই সেবা হতে হবে চাহিদানির্ভর। সরবরাহনির্ভর সেবা দেওয়া হলে তা কার্যকর কোনো ফল বয়ে আনবে না। ব্যাংকগুলো কৃষি খাত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিলেও সেখানে অংশীদারি মনোবৃত্তির অভাব রয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রফিকুল হক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যাতে এ দেশের কৃষি খাত এগিয়ে যেতে পারে, সে জন্য নতুন নতুন নানা পদ্ধতি উদ্ভাবনে কাজ করছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া কৃষককে তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক সেবা দিয়েও এ খাতকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না।
ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি সবুর খান বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ক্রমেই কমছে। এই অবস্থায় কৃষির উন্নয়নে উৎপাদিত পণ্যের মূল্যসংযোজন বৃদ্ধি করতে হবে।

চ্যানেল আইয়ের বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, এ দেশে কৃষক তাঁর নিজের প্রয়োজনে কৃষিপণ্য উৎপাদনে নানা বৈচিত্র্য নিয়ে এসেছেন। এ খাতের উৎপাদন বাড়াতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে গিয়ে ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষক যাতে বিপদে না পড়েন, সেটি মাথায় রাখতে হবে। কৃষকের চাহিদার ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা নির্ধারণ করতে হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, পৃথিবীর এক হাজার ভাগের এক ভাগ ভূমি আছে বাংলাদেশে, তার বিপরীতে জনসংখ্যা আছে এক হাজার ভাগের ২৪ ভাগ। তা সত্ত্বেও নানা উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে কৃষকেরা এ দেশকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যেকোনো সেবার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাবে।

ইএটিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন বলেন, মোবাইল ফোন এখন শুধু কথোপকথন ও খুদেবার্তা বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের ১২০টি দেশের ওপর পরিচালিত এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোনের ব্যবহার ১০ শতাংশ বাড়লে তাতে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ বেড়ে যাবে। এমন এক বাস্তবতায় আমাদের দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে কৃষককে প্রয়োজনীয় নানা সহায়তা দিতে হবে।’

গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন আহসানিয়া মিশনের সভাপতি কাজী রফিকুল আলম, বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবীর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মসূচি পরিচালক অনিল কুমার দাস, কেয়ার বাংলাদেশের কর্মসূচি পরিচালক আনোয়ারুল হক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন মিফতাউর রহমান, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসাইন, অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু, বেসিসের সভাপতি শামিম আহসান, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সায়েদ আখতার হোসাইন, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লুৎফর রহমান ও সাইফুল ইসলাম, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক রেজাওয়ানুল ইসলাম প্রমুখ।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
পাতাটি ৪৩৮৯ প্রদর্শিত হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

»  চাই কৃষিবান্ধব তথ্যপ্রযুক্তি

»  উত্তরাঞ্চলে ৫০ হাজার বিঘায় সয়াবিন চাষের পরিকল্পনা

»  আলু চাষে সাফল্য পেতে চান চৌগাছার কৃষকরা

»  তালায় লবণসহিঞ্চু টমেটো চাষে ব্যাপক সাফল্য

»  ফসলি জমিতে সারের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে